আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ভারি বৃষ্টিতে বন্যায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান। এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে রাজ্যেটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন জেলা। ২০১৫ সালে ভয়াবহ বন্যার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আদালত।
শনিবার নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্বপ্রণোদিত হয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে রুল জারির হুঁশিয়ারি দেন হাইকোর্ট। এদিকে, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে বন্যায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে দেশটির ২৫টি জেলায় ভূমিধস সর্তকতা জারি করা হয়েছে।
টানা দুদিনের বৃষ্টিতে এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে তামিলনাড়ু রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন জেলা। বন্যায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধ শতাধিকেরও বেশি ঘরবাড়ি। মারা গেছে বেশ কয়েকটি গবাদি পশু। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২ লাখেও বেশি মানুষ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী চেন্নাই এবং থেনি ও মাদুরাই জেলা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। জমে থাকা পানি সরাতে ৫শ’ টি পাম্প বসিয়েছে চেন্নাই করপোরেশন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক লাখ মানুষকে দেয়া হচ্ছে খাদ্য সহায়তা। পারাপারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ৪১টি নৌকা।
এদিকে চলমান বন্যাকে ২০১৫ সালে পর সবচেয়ে বড় বন্যা হিসেবে আখ্যা দিয়ে, দুর্যোগ মোকাবিলায় গেল ছয় বছরে রাজ্য সরকার কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়েছেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, চলমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশও করেন আদালত। এছাড়াও, আগামী শনিবার নাগাদ পরিস্থতির উন্নতি না হলে, আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে রুল জারি করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
আগামী আরও দু’দিন ভারি বর্ষণ চলতে থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া দফতর। এতে নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
এদিকে, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বজ্রপাতে মারা গেছে ২ জন। এখন পর্যন্ত চার হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ছ’শ’র বেশি ঘরবাড়ি। দেশটির ২৫টি জেলায় ভূমিধস সর্তকতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানায়, আরো কয়েকদিন কলম্বোতেও ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকবে।
