হোম আন্তর্জাতিক টুইটার নিয়ে ইলন মাস্ক কী করবেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

টুইটারে নিজের শেয়ার নিয়ে কোনো টুইট করেননি ইলন মাস্ক। যারা এ নিয়ে উন্মুখ হয়ে ছিলেন, তাদের কাছে বিষয়টি কিছুটা হাস্যকর লেগেছে। হয়ত সামাজিকমাধ্যমটিতে তার ৯ দশমিক দুই শতাংশ মালিকানাকে নিষ্ক্রিয় শেয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করায় এমনটি হয়েছে।-খবর বিবিসির

যদিও মাস্ক সম্পর্কে যারা জানেন, তারা চাইবেন না যে তিনি এভাবে দীর্ঘ সময় থাকেন। শেয়ার কেনার পর তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল একটি জনমত জরিপ চালু করা। টুইটারে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি জানতে চেয়েছেন, আপনারা কী একটি ‘এডিট বাটন’ চাচ্ছেন? অনেক আগেই এমন দাবি উঠেছিল। হয়ত ব্যক্তিগতভাবে তার এ রকম একটি চাওয়া থাকতে পারে।

ইতিমধ্যে তিনি টুইটারের পরিচালনা বোর্ডে যোগ দিয়েছেন। এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। মঙ্গলবার এক টুইটবার্তায় টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরাগ আগারওয়াল বলেন, ইলন মাস্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথাবার্তায় বোঝা গেছে, আমাদের বোর্ডে তিনি অনেক কদর নিয়ে এসেছেন। এই সেবার একজন অনুরাগী বিশ্বাসী ও তীব্র সমালোচক হিসেবে, তিনিই সেই ব্যক্তি, যাকে আমার প্রয়োজন।

পরবর্তীতে তার জবাবে মাস্ক বলেন, সামাজিক নেটওয়ার্ক জায়ান্টনিতে তিনি পরিবর্তন আনতে পারবেন বলে তার প্রত্যাশা।

সামাজিকমাধ্যম কোম্পানিটিতে তার ৯ দশমিক দুই শতাংশ শেয়ার সেই অর্থে অনেক ছোট। কিন্তু বিশ্লেষণ ফার্ম ওয়েডবুশের ড্যান ইয়াভেস বলেন, এটি চোখ ছানাবড়া হওয়ার মতো ঘটনা। যা নেটওয়ার্কের সাত কোটি ৩৫ লাখ শেয়ারের সমান।

টুইটারের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার টেসলা প্রতিষ্ঠাতা—সোমবার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্ল্যাটফর্মটির শেয়ারের মূল্য বেড়ে যায়। অর্থাৎ প্ল্যাটফর্মটির দাম এখন ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি।

ক্ষুদে ব্লগটিতে মাস্কের শেয়ার তার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসির চেয়ে চারগুণ বেশি। নভেম্বরে টুইটারের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ডরসি। ড্যান ইয়াভেস মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার এই উদ্যোক্তার চোখ এখন টুইটারের ওপর। এরপর কোম্পানিটিতে তার উল্লেখযোগ্য শেয়ার ব্যবস্থাপনায় তাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করব, ইলন মাস্কের এই নিষ্ক্রিয় শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে টুইটারের বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা পরিষদের সঙ্গে তার বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে তা সক্রিয় শেয়ারে পরিণত হতে পারে। টুইটারে তিনি আরও আগ্রাসী মালিকানা গ্রহণ করতে পারেন বলে সম্ভাবনা রয়েছে।

টুইটারের সঙ্গে ইলন মাস্কের এক ধরনের প্রেম-ঘৃণার সম্পর্ক। তিনি নিজেও বারবার টুইট পোস্ট করেন। টুইটারে তার আট কোটি ফলোয়ার রয়েছে। সামাজিকমাধ্যকে তার মন্তব্য নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক দেখা দেয়। তার আবেগতাড়িত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মটি বেশ মানানসই।

গত বছর ফলোয়ারদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রাখেন—তার ইলেকট্রনিক গাড়ি কোম্পানি টেসলার ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া ঠিক হবে কিনা? জবাবে টুইটার ব্যবহারকারীরা ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিয়েছেন।

এরপর নভেম্বরে তার কোম্পানির ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের মতো শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। কয়েক মাস আগে আরেকটি মন্তব্য করে তিনি আলোড়ন তুলেছেন। তাতে বলেন, যদি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলতে পারে, কীভাবে বিশ্বজুড়ে অনাহারের সংকট দূর করতে করা যায়, তবে তাদের ৬০০ কোটি ডলারের চেক হস্তান্তর করা হবে।

টুইট করে তাকে বেশ কয়েকবার সমস্যায়ও পড়তে হয়েছে। টেসলার শেয়ার নিয়ে ২০১৮ সালের একটি পোস্টে তাকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছিল। পরে একটি চুক্তির মাধ্যমে তারা আপসে এসেছেন। যাতে কোনো কোনো টুইটের জন্যে কোম্পানির আইনজীবীদের আগেভাগেই অনুমতি নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সত্যিকার অর্থে এমন কিছু ঘটেছে কিনা; তা আর জানা সম্ভব হয়নি।

মজার বিষয় হচ্ছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর বলছে, দ্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) তার টুইটারের শেয়ার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তাতে একটি বাক্য লেখা থাকে: তিনি কোম্পানিতে কোনো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন না, কিন্তু তার বেলায় ‘প্রযোজ্য নয়’ চিহ্ন দেওয়া রয়েছে।

এছাড়া চুক্তির সময়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। এতে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে তাকে। ১৪ মার্চ টুইটারে তার বিনিয়োগ তালিকাভুক্ত হয়েছে। কিন্তু চলতি সপ্তাহের আগ পর্যন্ত তা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। কিন্তু কোনো কোম্পানি অধিগ্রহণ করলে মার্কিন সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে ১০ দিনের মধ্যে তা প্রকাশ করে দিতে হবে।

নিজের কোম্পানিকে তিনি কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেই ব্যারোমিটার হিসেবে টুইটারে সক্রিয় থাকছেন না ইলন মাস্ক। কিন্তু এটিকে দেশের পরিস্থিতি পরিমাপক হিসেবেও দেখছেন। গত মাসে এসইসিতে তার বিনিয়োগ তালিকাভুক্ত করার পর ব্যবহারকারীদের তিনি জিজ্ঞাসা করেন, গণতান্ত্রিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হতে বাকস্বাধীনতা অপরিহার্য কিনা এবং টুইটারকে সেই নীতিতে চলা উচিত কিনা।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আলেক্সান্ড্রা কিরোন মনে করেন, টুইটার ব্যবহারে তিনি প্রভাব বিস্তার করতে চান। তার এসব প্রশ্ন তা-ই বলে দিচ্ছে। সামাজিকমাধ্যমের ইকোসিস্টেমের তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছেন।

আইনি ফার্ম মোসেস অ্যান্ড সিংগারের অংশীদার হাওয়ার্ড ফিশার বলেন, তিনি ইতিমধ্যে টুইটারের শেয়ার কিনে নিয়েছেন। এরপর তার এসব প্রশ্নকে বাজার কারসাজি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ইলন মাস্কের প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন আগারওয়াল। তার এডিট বাটন জনমত যাচাইয়ে ভোটারদের সচেতনভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন