জাতীয় ডেস্ক :
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর পুরো ভবনের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিকভাবে তীব্র ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডের রোগীদের বাধ্যতামূলক ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) থেকে ভর্তি করানো হচ্ছে না কোনো রোগী। এতে স্থানীয় অনেক রোগী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আট ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা নেয়ার একমাত্র অবলম্বন এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন ধরে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির মূল ভবন একরকম জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল।
রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে আকস্মিকভাবে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে-এর পুরো ভবন। এতে মূল ভবনের ভিম-কলামসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র ফাটলের সৃষ্টি হয়। দোতলা ভবনের নারী ওয়ার্ডসহ একাধিক স্থানের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। একই সঙ্গে অনেক কক্ষের মেঝে দেবে গেছে। ভয়ে রাতেই নার্স-চিকিৎসকসহ রোগীরা আঁতকে ওঠেন। এমন অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে অনীহা দেখান নার্স ও চিকিৎসকরা।
পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগের কর্মকর্তা সরেজমিন নিরীক্ষা করে ভবনটিকে মাত্রারিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন। এতে পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডের রোগীদের বাধ্যতামূলক ছেড়ে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জরুরি বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে কর্তৃপক্ষ রোগী ভর্তি বন্ধ রাখে।
এতে স্থানীয় রোগীরাভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে মূল ভবন থেকে সরিয়ে অন্যত্র জরুরি ও বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
চিকিৎসক ও নার্সরা বলছেন, চরম ঝুঁকি নিয়েও তারা মানবিক কারণে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী হুসনুল করিম বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় তারা ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা ডা. মোহাম্মদ আফজালুর রহমান বললেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর জানানো হয়েছে।
৩১ শয্যাবিশিষ্ট রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১৯৮৫ সালে নির্মিত হয়।
