জাতীয় ডেস্ক :
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শহরের চৌগাছা বাসস্ট্যান্ডে বসা নতুন হাটের টোল আদায় কেন্দ্র করে শ্রমিক লীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আক্তার হোসেন (২২) ও জীবন মিয়া (২১) নামে দুই যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় এমপি ও মেয়র গ্রুপের সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় মেয়র গ্রুপের দুই কর্মী নিহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় যুবলীগের ওই দুই কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া সোহাগ ও সাব্বির নামে দুই যুবক গুরুতর আহত হন।
নিহত জীবন মিয়া কোটচাঁদপুর শহরের তালমিল পাড়ার ফিরোজ হোসেনের ছেলে এবং আক্তার হোসেন একই উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের আবু তালেবের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা বাসস্ট্যান্ডের ওই কাঁচাবাজারটি এমপি গ্রুপের পরিচয় দিয়ে জাতীয় পরিবহন শ্রমিক লীগের আশরাফুল, আমিরুল, সোহাগ ও মিঠু নিয়ন্ত্রণ করত। নতুন বছরে মালিকানা পরিবর্তন হয়ে নতুন একজন হাটটির ইজারা পায়। বেলা ১১টার দিকে কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র গ্রুপের ডন ও হাসানের সমর্থকরা সেখানে টোল আদায় করতে যায়। বাজারে জাতীয় পরিবহন শ্রমিক লীগের অফিসেই ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অপেক্ষা করছিল প্রতিপক্ষ গ্রুপ। ডন ও হাসানের সমর্থকরা বাজারে ঢুকে টোল আদায় করার সময় প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। উভয় গ্রুপ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় কোটচাঁদপুরের চৌগাছা বাসস্ট্যান্ড রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে ৬ জন আহত হয়। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জীবনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদের যশোর রেফার্ড করা হয়। যশোরে যাওয়ার পথে আক্তার মারা যায়।
কোটচাঁদপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইসরাত জেরিন জানান, মৃত অবস্থায় জীবনকে আনা হয়েছিল।
আহতদের মধ্যে আক্তার, সোহাগ ও সাব্বিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। যশোর হাসপাতালে যাওয়ার পথে আক্তার হোসেন মারা যান।
কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমেনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ডন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।
