হোম অন্যান্যসারাদেশ ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিতে বেড়েছে আগ্রহ ও উপস্থিতি

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউনের মধ্যেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজির এসএমএস প্রাপ্তরা। সকলের উদ্দেশ্য একটিই, করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে প্রতিরোধী টিকা নিতে হবে। সময় যত বাড়তে থাকে ততই দীর্ঘ হয় অপেক্ষমানদের লাইন।

গতকাল সোমবার ঘড়ির কাটায় তখন বেলা ১২টা ৪০ মিনিট। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও বিরক্তি ছিলো না কারোর। এরই মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। তখন বেলা ১২টা ৫০, বৃষ্টিতে ভিজছেন সকলে-তারপরও ঠাঁই দাঁড়িয়ে লাইনে। ভিজতে হলে ভিজবেন, তবু টিকা নিতেই হবে।

এমন দৃশ্য জানান দিয়েছে আগের চেয়ে আরও বেশি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে টিকা গ্রহণে। প্রথম দফার গণটিকা শুরু হলেও মানুষের মধ্যে টিকাদানে যে ভয় ছিলো সে ভয়কে দ্বিতীয় দফায় উৎসবে পরিণত করছেন যশোরবাসী। একই চিত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য অনুসারে শুধুমাত্র সোমবার যশোরে করোনার টিকা নিয়েছেন চার হাজার একশ’ ১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই হাজার দুশ’ ৯১ এবং নারী এক হাজার আটশ’ ২৪ জন। এর মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলায় টিকা নিয়েছে ৪০১জন।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর এক বছরের মধ্যেই শুরু হয় এই ভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম। ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী প্রথম দফায় গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম টিকা নেয়ার ৬০ দিন পর ৮ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়। টিকার সংকট দেখা দেয়ায় ২৬ এপ্রিল থেকে প্রথম ডোজ দেয়া এবং ২ মে’র পর থেকে টিকার জন্য নিবন্ধন বন্ধ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পরবর্তীতে সিনোফার্ম ফাইজার ও মর্ডানার টিকা প্রাপ্তির পর সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হলে পূণরায় চালু হয় টিকার প্রথম ডোজ ও নিবন্ধন কার্যক্রম। ১৯ জুন সারাদেশে আবার শুরু হয় করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেয়ার কার্যক্রম। আর দীর্ঘ বিরতির পর ৮ জুলাই থেকে আবারো টিকার জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম উন্মুক্ত করা হয়।

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এ পর্যন্ত সাতটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত টিকাগুলো হলো ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার স্প্রুটিনিক ভি, চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক্স, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার-বায়োএনটেক, মর্ডানা ও জনসন অ্যান্ড জনসন। তবে দেশে এ পর্যন্ত টিকা প্রয়োগ হয়েছে মাত্র চারটি কোম্পানির। সেগুলো হলো; কোভিশিল্ড, সিনোফার্ম, ফাইজার ও মর্ডানা।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন