নিউজ ডেস্ক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গাজীপুরে তাহরিমা জান্নাত সুরভী (২১) নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। তাকে গ্রেপ্তারের পর এবার ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।
এক ফেসবুক পোস্টে তাহরিমার ছবি পোস্ট করে সালাউদ্দিন আম্মার লিখেছেন ‘এই মেয়েটার নাম তাহরিমা, এখন জেলে আছে। অভিযোগ ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি। সংখ্যাটা শুনেই সন্দেহ জাগে। ৫০ কোটি! এই দেশেই যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয় কাগজে-কলমে, সেখানে একজন জুলাইয়ের রাজপথে থাকা তরুণীর বিরুদ্ধে হঠাৎ করে এমন অঙ্ক এটা কি সত্যিই বিচারিক অনুসন্ধানের ফল, নাকি ভয় দেখানোর রাজনৈতিক সংখ্যা?’
পাঁচটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন রেখে সেই ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, প্রশ্ন হলো ৫০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ কোথায়? ব্যাংক ট্রান্সফার? মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল ট্রেইল? সাক্ষী? নাকি শুধু অভিযোগ আছে এই এক লাইনের ওপর ভর করেই জেল?
আম্মার আরও লিখেছেন, ‘আরও অদ্ভুত বিষয় হলো একদিকে বলা হচ্ছে চাঁদাবাজি, অন্যদিকে পত্রিকার ভাষ্য সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য। তাহলে আসল অভিযোগ কোনটা? চাঁদাবাজি না মতপ্রকাশ? যদি চাঁদাবাজি হয়, তাহলে রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য টেনে আনার দরকার কেন? আর যদি বক্তব্যই অপরাধ হয়, তাহলে চাঁদাবাজির মতো ভয়ংকর লেবেল লাগানোর মানে কী? এটা কি আইনি প্রক্রিয়া, নাকি ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন? সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গাটা এখানে আজ সে জেলে, কাল আপনি, পরশু আমি। আর তখন রাষ্ট্র বলবে চাঁদাবাজ ধরা পড়েছে। প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন নেই, কারণ আমরা আগেই চুপ থাকতে শিখে গেছি। এই দেশে এখন অভিযোগই সাজা, গ্রেপ্তারই প্রমাণ আর সংবাদ শিরোনামই রায়। প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়,নীরবতাই অপরাধ। আজ যদি আমরা না বলি প্রমাণ দেখাও, মামলার অবস্থা কী,চার্জশিটে কী লেখা আছে,বিচার কোথায়!! তাহলে কাল যখন কাউকে তুলে নেওয়া হবে লোকজন শুধু বলবে কিছু একটা করেছিল তাই তো ধরছে। এইটাই সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রবিরোধিতা’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গীর গোপালপুর টেকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাহরিমা ওই এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন। ফেসবুকে তিনি নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অপহরণের একাধিক অভিযোগ আছে।
রাকসুর জিএস কে এই সালাহ উদ্দীন আম্মাররাকসুর জিএস কে এই সালাহ উদ্দীন আম্মার
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় করা একটি মামলায় তাহরিমা জান্নাত পরোয়ানাভুক্ত আসামি। মামলাটি করেছেন নাইমুর রহমান (দুর্জয়) নামের এক সাংবাদিক। তার অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্ল্যাকমেলিং কার্যক্রমে তাহরিমা জড়িত। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ আছে।
