আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বেলজিয়ামে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির জেরে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। দৈনন্দিন খরচ সামাল দিতে পারছেন না তারা। যার ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে রাজধানী ব্রাসেলসের রাস্তায়। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন হাজার হাজার নাগরিক। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার পরিবহন দফতরের কর্মচারী।
আরটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে কর্মচারীদের আন্দোলন শুরু হয়। শনিবারও সেই বিক্ষোভ রয়েছে। বিক্ষোভের জেরে থমকে গেছে পরিবহন ব্যবস্থা। এমনকি এ আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলের ওপরও। ব্রাসেলস বিমানবন্দর শান্ত থাকলেও ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
১৯৯৬ সালের মজুরি সীমা আইনের নিন্দা করার পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে কর্মচারীরা। কারণ তারা দৈনন্দিন খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেলজিয়ামের জেনারেল লেবার ফেডারেশনের (এফজিটিবি) প্রেসিডেন্ট থিয়েরি বডসন বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই জ্বালানির খরচ কমাতে হবে, মজুরি নয়।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু, জ্বালানির দাম কমাতে সক্ষম নয় ইউরোপ, তাই এটি করার জন্য বেলজিয়ামকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সিএসসি ট্রেড ইউনিয়নের সেক্রেটারি জেনারেল মারি-হেলেন স্কা বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হল – মজুরি নিয়ে আলোচনা করার মৌলিক স্বাধীনতা, যা আমাদের আদায় করতে হবে।’ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বেলজিয়ামকে জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের আইন আলোচনার স্বাধীনতার পরিপন্থি।
‘গত দুই বছর ধরে এই আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে কমন ট্রেড ইউনিয়ন ফ্রন্ট (সিএসসি, এফজিটিবি, সিজিএসএলবি)। কিন্তু তারা সফল হয়নি’, একথা বলেন বডসন। তিনি আরও বলেন, ‘কমন ট্রেড ইউনিয়ন ফ্রন্ট বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে চায়।’ তিনি জানান, ‘আমাদের সংকল্প থেমে থাকবে না। ২০২৩ সালে আরও পরিকল্পনার নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব আমরা।’
কর্মচারী, প্রযুক্তিবিদ ও ম্যানেজারদের ইউনিয়নের (সেক্টা) মহাসচি মিশেল ক্যাপোন জানান, ‘জ্বালানির ক্রমবর্ধমান খরচ মোকাবিলায় সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা যথেষ্ট নয়। কারণ এগুলি ছিল সীমিত সময়ের প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সরকারের আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’
