আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহরের একটি থানায় এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে ঢোকার পর সেখানে বিস্ফোরণ হয়। এ ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি জারি করা নতুন একটি ফৌজদারি আইন নিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে ক্ষুব্ধ এক সন্দেহভাজন জঙ্গি বুধবার (০৭ ডিসেম্বর) থানায় ঢুকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর জনসংযোগ শাখার প্রধান আহমদ রমাদান বলেছেন, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারী ও এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কর্তৃপক্ষগুলো সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী এজেন্সি বিএনপিটির ইবনু সুহেন্দ্রা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে জামায়া আনশারুত দৌলা (জেএডি) এ হামলার পেছনে থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, এর আগেও জেএডি ইন্দোনেশিয়ায় একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল।
পশ্চিম জাভা প্রদেশের পুলিশ প্রধান সুনতানা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলে নীল রঙের একটি বাইক পাওয়া গেছে, হামলাকারী এটি ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেটির বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। তিনি আরও জানান, এই বাইকের পাশে একটি নোট পাওয়া গিয়েছে। সেখানে মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে অনুমোদন পাওয়া নতুন ফৌজদারি আইন প্রত্যাখ্যান সূচক বার্তা রয়েছে।
সুনতানা বলেন, হামলাকারী দু’টি বোমা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিল, কিন্তু শুধু একটি ফাটানোর সময় পেয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন ফুটেজে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ ভবনটির কিছু ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে আছে আর বিস্ফোরণস্থল থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। বান্দুংয়ের বাসিন্দারা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনেছেন।
এর আগে বান্দুংয়ের পুলিশ কর্মকর্তা আসউইন সিপাইয়ুং মেট্রো টিভিকে বলেছিলেন, সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে থানায় প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জঙ্গিরা বিভিন্ন সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় বিদেশিদের আনাগোনা আছে এমন স্থানগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি হামলার শিকার হওয়ার পর ইন্দোনেশিয়া অবশেষে সন্ত্রাসবিরোধী আইন তৈরি করেছে।
