অনলাইন ডেস্ক :
বরিশালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশ এনে গণধোলাই থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন পেশাদার এক চোর। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের এ.আর.খান বাজার এলাকায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, পেশাদার ওই চোর এক দোকানে চুরি করতে ঢুকে মূল্যবান মালামাল গোছাতে গিয়ে টের পাননি কখন সকাল হয়ে গেছে। মালামাল নিয়ে যখন বের হবেন তখন দেখেন বাইরে ভোরের আলো ফুটেছে। দোকানের আশপাশে লোকজন যাতায়াত করছে। এই পরিস্থিতিতে চুরি করা মালামাল নিয়ে বের হলে বিপদে পড়তে হবে। আর ধরা পড়লেই খেতে হবে গণধোলাই। আর তাই বুদ্ধি খাটিয়ে ওই চোর আত্মরক্ষায় পুলিশের জরুরি সহায়তা চেয়ে ৯৯৯ এ ফোন করেন। বরিশাল মহানগরের বন্দর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপদে পড়া ওই চোরকে উদ্ধার করেন।
বন্দর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ইয়াসিন খাঁ (৪০) নামের ওই চোরকে বুধবার সকালে উদ্ধারের পর একই দিন বিকেলে চুরির মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এই চোরের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ছিলারিশ গ্রামে। তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বরিশাল নগরীর কালুশাহ সড়কে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
বন্দর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, সংশ্লিষ্ট দোকানি ঝন্টু মিয়া মামলা না করায় অন্য একটি চুরি মামলায় ইয়াসিন খাঁকে আদালতে সোপর্দ করার পর আদালত জেল হাজতে পাঠিয়েছে। ওসি আরও বলেন, পুলিশে তার ১৫ বছরের চাকুরি জীবনে এর আগে এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি। ইয়াসিন খাঁ স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চুরি করছেন। তিনি একজন পেশাদার চোর। অন্য কোন কাজ তিনি করেন না।
চোর ইয়াসিন খাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে বন্দর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের এ.আর.খান বাজারের ঝন্টু মিয়ার মুদি দোকানের তালা ভেঙ্গে চুরি করতে দোকানের ভিতর ঢোকেন তিনি। এরপর বেছে বেছে মূল্যবান মালামাল একটি ব্যাগে ভরেন। চুরি করা মূল্যবান মালামাল নিয়ে বের হওয়ার সময় দেখতে পান সকাল হয়ে গেছে এবং বাজারে লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় বাইরে নামলে লোকজনের হাতে ধরা পড়ে যাবেন এবং ধরা পরার পর নির্ঘাত গণধোলাইয়ের স্বীকার হতে হবে। এমন আশঙ্কায় ইয়াসিন খাঁ তার মোবাইল ফোন দিয়ে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তা চান।
বন্দর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জমান আরো বলেন, ইয়াসিন খাঁ বুধবার সকালে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে বলেন, তিনি খুব বিপদে পড়েছেন। তাকে যেন পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। এমন খবর পেয়ে বন্দর থানার একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়াসিন খাঁকে মালামালসহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। উদ্ধারের পর ইয়াসিন খাঁ পুলিশকে জানায়, সকাল হয়ে যাওয়ায় তিনি বের হতে পারছিলেন না, গণধোলাইয়ের শিকার হওয়ার ঝুঁকি ছিল। তাই তিনি পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট দোকানের মালিক ঝন্টু মিয়া বলেন, তার দোকানের কোন মালামাল খোয়া যায়নি। ওই চোর দামি মালামাল চুরি করার জন্য ব্যাগে ভরেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিতে পারেননি। চোরের এমন উপস্থিত বুদ্ধির বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের মধ্যে বেশ রসালো আলোচনা চলছে।
