আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুকে জানিয়েছেন, চীন ও ভারতের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে এই সম্পর্ক ‘ড্রাগন- হাতির ট্যাঙ্গো নৃত্যের’ মতো হওয়া উচিত, যেখানে উভয় দেশ একসঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে।
মঙ্গলবারদুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে চীনের ও ভারতের রাষ্ট্রপ্রধানরা একে অপরকে অভিনন্দন বার্তা বিনিময় করেন। এই বার্তার মাধ্যমে ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তে শান্তি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, চীন ও ভারতের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা উচিত। আমি আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় করতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, চীন আশা করে যে ভারত চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করবে ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
অন্যদিকে, বেইজিংয়ে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং বলেছেন, চীন ভারত থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী ও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে চায়।
জু ফেইহং চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, আমরা চাই ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হিমালয় অতিক্রম করে চীনে বিনিয়োগ করুক ও আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা গ্রহণ করুক।
চীন ও ভারত এমন সময়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের কথা বলছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক নীতি প্রণয়ন করতে চলেছে। ভারত এরই মধ্ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে মার্কিন পণ্যে শুল্ক হার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, কারণ ট্রাম্প ভারতকে ‘শুল্কের রাজা’ এবং ‘শুল্কের অপব্যবহারকারী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। এর জেরে ভারত চীনের বিভিন্ন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি কোম্পানির উপর কড়াকড়ি আরোপ করে, যা এখনো বহাল রয়েছে
তবে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয় ও তাদের সীমান্ত টহল সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য অক্টোবরে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করে। বর্তমানে দুই দেশ একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ও তারা শুল্ক সংক্রান্ত অচলাবস্থা নিরসনের চেষ্টা করছে।