হোম অর্থ ও বাণিজ্য চিনির দাম বেশি রাখায় ২৭৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বাণিজ্য ডেস্ক :

চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণে ২২-২৩ অক্টোবর ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী ১০৩টি অভিযান চালানো হয়। এসময়ে চিনির দাম বেশি রাখা এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সোমবার (২৪ অক্টোরব) চিনির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর তাদের নেয়া কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার মৌলভীবাজার, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউনহল মার্কেট, মিরপুর শাহআলী মার্কেট, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ দেশের প্রায় সব জেলার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি র্কাযক্রম পরিচালিত হয়।

তদারকি কার্যক্রমে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে অসংগতি পরিলক্ষিত হয়।

এসব বাজারে সরকারনির্ধারিত মূল্যে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে না এবং বাজারে চিনির সরবরাহ কম। একই সঙ্গে বাজারে প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ কম। কোথাও আবার প্যাকেটজাত চিনির প্যাকেট কেটে খোলা চিনি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে বা প্যাকেটের এমআরপি মুছে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

তদারকিকালে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মিলগেট, খাতুনগঞ্জ বা মৌলভীবাজার থেকে সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চিনি কিনতে হচ্ছে। এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চিনি কিনতে হচ্ছে।

বাজার অভিযানের সময়ে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ক্রয় ভাউচার পাওয়া যায়নি। এর কারণ হিসেবে বিক্রেতারা জানান, মিলগেট, মৌলভীবাজার, খাতুনগঞ্জের মতো বড় পাইকারি বাজার থেকে তাদের ক্রয় ভাউচার দেয়া হয় না। দু-এক ব্যবসায়ী ভাউচার দিলেও সেখানে চিনির পরিমাণ উল্লেখ থাকে, কিন্তু টাকার পরিমাণ উল্লেখ থাকে না।

এছাড়া পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান যে, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো চিনি পাচ্ছেন না। ২ মাস আগে অর্ডার করা চিনি এখনও সরবরাহ করা হয়নি।

এদিকে সোমবার (২৪ অক্টোরব) চিনির মিল মালিক, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা, ক্যাব, বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি ও পেট্রোবাংলা প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে ভোক্তা অধিকার। সভায় চিনির মজুত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অপরিশোধিত চিনির মজুত ও পাইপলাইনে সর্বমোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন চিনি মজুত রয়েছে এবং দেশে চিনির কোনো ঘাটতি নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজার তদারকি ও সভায় পর্যালোচনা করে চিনির বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কারণগুলো জানা গেছে। সেগুলো হচ্ছে:

চিনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত চাপের গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চলমান গ্যাস সংকটে তত গ্যাস না পাওয়ায় মিলগুলেতে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। যার ফলে চিনির সরবরাহ কমে যায়।

চিনি কেনাবেচার ক্ষেত্রে মুদ্রিত (পাকা) ভাউচার দেয়া হচ্ছে না। এতে চিনি কেনাবেচার প্রতিটি পর্যায়ে মূল্য কারসাজির সুযোগ নেয়া হচ্ছে। চিনির সরবরাহ নিতে ট্রাকগুলোকে ৭ থেকে ৮ দিন পর্যন্ত মিল গেটে অপেক্ষা করতে হয়, এতে চিনির পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়।

এদিকে চড়া ডলারের দামের প্রভাবও চিনির বাজারে পড়েছে। এছাড়া রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় এলসি খোলা ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। চিনি আমদানির ক্ষেত্রে এখনও শুল্কহার বেশি বলে জানিয়েছেন রিফাইনারি মালিকরা।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন