জাতীয় ডেস্ক :
পরীক্ষা শেষে বেড়াতে যাওয়ার জন্য দরকার টাকা। আর সেই টাকা জোগাড় করতে নানাকে অচেতন করার পরিকল্পনা করে নাতি-নাতনি। কিন্তু নানা যখন বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধা দেয়, তখনই কিল-ঘুষি মারা শুরু, এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নানা। এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আনিকা তাবাসসুম। রাজধানীর একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। আনিকার ছোট ভাই আলভী এইচএসসি পরীক্ষার্থী। দুজনই পরীক্ষা শেষে ঢাকার বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তার জন্য দরকার টাকা। কিন্তু তারা জানতো এত টাকা কোনোভাবেই বাবা-মায়ের কাছে পাবেন না। তবে তারা জানত টাকা আছে নানার কাছে।
আনিকার বয়ফ্রেন্ড রাজু এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করা হয় নানার বাসা থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার। গত ১৮ নভেম্বর রাতে নানাকে হাত বা বেঁধে প্রথমে চেতনানাশক ইনজেকশন দেয়ার চেষ্টা করা হয়। নানা বাধা দিলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৮০ বছর বয়সি মনসুর আহমেদ।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিবারের সবাই চলে যান, কিন্তু এই বয়স্ক লোকটি একা বাসায় ছিলেন। তখন তারা সুযোগ বুঝে বাসায় যায়, আর আনিকা আগেই নকল চাবি তৈরি করে দিয়েছিল তার বয়ফ্রেন্ডকে এবং সেই চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে। এরপর তাকে ইনজেকশন পুশ করতে চাইলে তিনি বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ বলছে, এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আনিকা ও তার ভাই আলভী। বাস্তবায়নে তাদের সহায়তা করেন আনিকার বয়ফ্রেন্ড রাজু।
বিপ্লব বিজয় তালুকদার আরও বলেন, এক মাস আগে তারা এ পরিকল্পনা করে। মূল পরিকল্পনাকারী আনিকা, তার কাছ থেকে রাজু যখন জানতে পারে, তখন তারা সুযোগ খুঁজতে থাকে। একটা ভালো সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় থাকে তারা।
এ ঘটনার জন্য পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে দায়ী করছে পুলিশ।
