জাতীয় ডেস্ক :
রংপুর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ও চাঁদা ছাড়া কোনো কাজ হয় না বলে অভিযোগ সেবা প্রত্যাশীদের। দলিল লেখক ও কিছু নকল নবীশ সদস্যের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা সেবাপ্রার্থীরা। প্রতি মাসে শুধু দলিল লেখক সমিতি চাঁদা বাবদ হাতিয়ে নিচ্ছে ৬১ লাখ টাকার বেশি। আর জেলা রেজিস্ট্রার কথা শোনার আগেই রেগে আগুন।
সরকার নির্ধারিত রেট অনুযায়ী বেচাকেনার সাড়ে ৭ শতাংশ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া আর প্রতিটি দলিল সম্পাদনের ফি ৬২ টাকা। অথচ বিপ্লব নামে এক জমি ক্রেতার কাছে ২ শতাংশ একটি জমির জন্য শুধু দলিল লেখার ফি হিসেবে চুক্তি করে আগেই হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ১৩ হাজার টাকা।
সেবাগ্রহীতা বিপ্লব বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ। জানি না কোথায় কত টাকা লাগে। কোথাও সে বিষয়ে লেখাও নেই। তাই দলিল লেখকরা যা বলেন, তাই দিয়ে আমাদের চলে যেতে হয়। আমাদের কাছ থেকে তারা যে টাকা নিচ্ছে সে টাকার সঠিক হিসাবও দিতে পারেন না।’
কিন্তু কোন খাতে কত টাকা নেয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নে ৬ হাজার ৮৬০ টাকার বেশি হিসাব দিতে পারলেন না সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক। শুধু লজ্জিত ভঙ্গিতে জানালেন, আরও কিছু খরচ আছে।
খোদ দুজন দলিল লেখকের অভিযোগ, ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের জন্য ৩৩০০ টাকা সমিতিতে জমা দিতে হয়। সমিতির সদস্য পদ পেতেও ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার ডোনেশন নেয়ারও অভিযোগ তাদের।
অনেকের অভিযোগ, বছর দুয়েক আগেই চাকরি শেষ হয়ে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রারের সেরেস্তার চেয়ার টেবিলে বসে কানু নামে এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে পুরো অফিস। পুরোনো লোক হওয়ায় সব আটঘাঁট তার জানা। তাই কর্মকর্তা বদলালেও তার কোনো পরিবর্তন নেই।
প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি দলিল সম্পাদন হয় এবং দলিলপ্রতি সমিতির পক্ষ থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের স্বীকারোক্তি দিয়ে নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান তুহিন।
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে পরে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে গেলেন সাব রেজিস্ট্রার রামজীবন কুণ্ডু। আর জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম প্রামাণিক কথা শোনার আগেই রেগে আগুন। একইসঙ্গে করেছেন অসৌজন্যমূলক আচরণ। বললেন, ‘যা খুশি লেখতে পারেন!’
দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন সম্পাদিত ৭০টি দলিল থেকে প্রতিটির জন্য ৪ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসের ২২ কর্মদিবসে আদায়ের পরিমাণ ৬১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
