হোম আন্তর্জাতিক গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ন্যাটোর অবসান হবে: ডেনমার্ক

গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ন্যাটোর অবসান হবে: ডেনমার্ক

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 42 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে, তা শুধু একটি দ্বীপের ভবিষ্যৎ নয় বরং উত্তর আটলান্টিক জোট ন্যাটোর ঐক্য, পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সীমারেখা নিয়েই এক গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন সতর্ক করে বলেছেন, ডেনমার্কের সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা হবে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর শেষ।

ন্যাটো গঠিত হয়েছে একটি মৌলিক নীতির ওপর তা হলো, এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানেই সকল সদস্যের ওপর আক্রমণ। সেই জোটের ভেতরেই যদি একটি শক্তিধর রাষ্ট্র তার মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের চিন্তা করে, তাহলে ন্যাটোর নৈতিক ও কৌশলগত ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প, ব্যর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক বৈঠকগ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প, ব্যর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক বৈঠক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং রাশিয়া ও চীন যেন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য দ্বীপটির মালিকানা ওয়াশিংটনের হাতে থাকা জরুরি।

আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে রাসমুসেন স্পষ্টভাবে চীনের প্রভাব থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে আমরা সেখানে কোনো চীনা যুদ্ধজাহাজ দেখিনি। গ্রিনল্যান্ডে চীনের কোনো বিনিয়োগই নেই।’

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ স্বাধীনতা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার পক্ষে নয়। এর অন্যতম কারণ হলো তারা ডেনিশ রাষ্ট্রের মাধ্যমে বিস্তৃত সামাজিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে ন্যাটো অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর হবে: ট্রাম্পগ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে ন্যাটো অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর হবে: ট্রাম্প
রাসমুসেন বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি মনে করি না যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কল্যাণ ব্যবস্থার খরচ বহন করবে।’

তবে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও তিনি জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র একটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। এই গ্রুপের কাজ হবে, কীভাবে ডেনমার্ক রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা যায় এবং একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে মোকাবিলা করা যায়।

আর্কটিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডেনমার্ক ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। অঞ্চলটি যেনো কোনো উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় পরিণত না হয় সেজন্য আর্কটিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গত বছর প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন