হোম আন্তর্জাতিক গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছেন ট্রাম্প: নেদারল্যান্ডস

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছেন ট্রাম্প: নেদারল্যান্ডস

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 34 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউরোপীয় মিত্ররা গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরে রাজি না হওয়ায় আটটি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তাকে সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছে নেদারল্যান্ডস।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই কথা উঠে এসেছে। ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি এক প্রকার জবরদস্তি এবং সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়।

তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের এমন আচরণ ন্যাটো জোটের ঐক্য নষ্ট করছে এবং এতে গ্রিনল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্র কারও কোনো উপকার হবে না। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আটলান্টিকের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।

শনিবার ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা করেন যে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।

মূলত গ্রিনল্যান্ডে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মহড়ায় সৈন্য পাঠাতে এই দেশগুলো রাজি হওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে এই শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। তবে ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্যান উইল এর বিরোধিতা করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে এই সামরিক মিশনের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে এটি দেখানো যে ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি ট্রাম্পের কূটনীতি ও বাণিজ্যের মধ্যে এই স্বার্থপর যোগসূত্র টানার কড়া সমালোচনা করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ মালিকানা পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন এবং দাবি করছেন যে অঞ্চলটির কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষই বারবার জানিয়ে দিয়েছে যে এই দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং এটি কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নয়। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।

ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের হুমকির জবাবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা রোববার এক জরুরি বৈঠকে বসছেন। ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ও জোটের মূল্যবোধের পরিপন্থী।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই নাছোড়বান্দা মনোভাব ও শুল্ক যুদ্ধ ইউরোপের প্রধান অর্থনীতিগুলোর ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে বিশ্ববাজারে এক নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন