জাতীয় ডেস্ক :
গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষুব্ধরা।
বুধবার (১২ অক্টোবর) গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক হয়েছে দাবি করে ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে আমরা ফুলছড়ি-সাঘাটাবাসী হতভম্ব। আমরা এর আগেও অনেক নির্বাচন দেখেছি, এবারের মতো সুষ্ঠু নির্বাচন কখনো হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি, জামায়াত-বিএনপির লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপনের ছবিসংবলিত গেঞ্জি গায়ে দিয়ে এ রকম নাশকতা করেছে। আমি নির্বাচন কমিশনারকে বলতে চাই, আপনি তদন্ত করেন। ঢাকায় থেকে দেখলেন, কাদের দেখলেন, সেটা জাতির সামনে তুলে ধরুন।’
ফুলছড়ি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, যে ৫১টি কেন্দ্রে ঝামেলা হয়েছে সেই কেন্দ্রগুলোর ভোট বন্ধ হবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু বাকি ৯৪টি কেন্দ্রের ফলাফল দেয়া হোক।
উদাখালি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহদী মাসুদ পলাশ বলেন, যদি বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করার ষড়যন্ত্র না-ই করে, তাহলে ১১ অক্টোবর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কেন ফুলছড়ি-সাঘাটা বিএনপির নেতাকর্মীদের নোটিশ দেবেন। নির্বাচন কমিশনারের বোঝা উচিত, এই নির্বাচন বন্ধের পেছনে ষড়যন্ত্রকারী কারা, তা প্রমাণিত।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন, ফুলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান খুশু, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল পারভেজ শালু, ফুলছড়ি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকন, আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বিক্ষোভকারীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, যে কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে, সেসব কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করে স্থগিত কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হোক। সেই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল সোবাহান বলেন, ‘এই ভোট আমরা বন্ধ করিনি। এটা নির্বাচন কমিশন বন্ধ করেছে। আমরা তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী চলি।’
কোনো উল্লেখযোগ্য অনিয়ম ছাড়াই গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। বুধবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল। দুপুর সোয়া ২টায় রাজধানীতে নির্বাচন ভবনে এসে ভোট বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
