আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে মস্কোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ভোটদান, ক্রেমলিনের প্রতিনিধিত্ব শুরুর অংশ হওয়ায়, ‘প্রহসনের গণভোটের’ নিন্দা জানাতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এএফপি’র।
জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রাত্যহিক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, বিশ্বকে প্রহসনের গণভোটের ব্যাপারে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হবে। তাদের দ্ব্যার্থহীনভাবে নিন্দা জানাতে হবে।
রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দিতে রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের অন্তত চারটি অঞ্চলে গণভোট শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিজিয়ায় গণভোট শুরু করেছে মস্কোপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ গণভোট চলবে।
রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ গণভোটের আয়োজন করলেও একে রাশিয়ার উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ এ গণভোটে দেশটির সরকারের সমর্থন রয়েছে। ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা বলছে, রাশিয়ার এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এটি যুদ্ধকে আরও তীব্র করবে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। সাত মাস ধরে চলছে এ যুদ্ধ। চলতি মাসের শুরুর দিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ খারকিভের ইজিয়াম থেকে পিছু হটে রুশ বাহিনী।
এরপরই রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে রুশ নিয়ন্ত্রিত এ চার অঞ্চলের মস্কো-সমর্থিত নেতারা গণভোটের সিদ্ধান্ত নেন। এ চার অঞ্চলের আয়তন ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ।
গণভোটের প্রতি সমর্থন দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত গণভোট চলার পর দ্রুতই ফল ঘোষণা করা হতে পারে। গণভোটের ফল পক্ষে এলে অঞ্চল চারটিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেবেন পুতিন।
এদিকে এ চার অঞ্চলে লড়াই আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে অধিকৃত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে প্রয়োজনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ।
তিনি বলেন, রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে মস্কোর মনোনীত কর্তৃপক্ষ রাশিয়ায় যোগ দিতে গণভোট আয়োজন করবে। পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক প্রজাতন্ত্র ও অন্যান্য অঞ্চল রাশিয়াকে মেনে নেবে।
ইউক্রেনে রুশ অধিকৃত এ চার অঞ্চলের পরিকল্পনা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অঞ্চলগুলোর এ সিদ্ধান্ত ইউক্রেন সংঘাতের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
