খুলনা অফিস :
খুলনা মহানগরীর প্রায় দেড় হাজার বাসা বাড়ির মানববর্জ্য যাচ্ছে ড্রেনে। সেপটিক ট্যাংকি, পিট ল্যাট্রিন, তলা বিহীন ল্যাট্রিনের মল সরাসরি ড্রেনে নির্গত হওয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এসব এলাকায় মানববর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা না থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আশপাশের মানুষ।
২০১৯ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)’র উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে আসার পর এখনো এ অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। কেসিসি’র জোর তদারকি স্বত্বেও অধিকাংশ বাড়ির মালিকরা এখনও ড্রেনেই তাদের মল ফেলছে। তবে কর্পোরেশন বলছে, জরিপের সময় অবহিত করায় অনেকেই তাদের ল্যাট্রিন মেরামত করেছে। বাকিদেরও মেরামত করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
ওই জরিপে উল্লেখ করা হয়, কর্পোরেশন এলাকার আয়তন ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার। এ অধিক্ষেত্রে ১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। মোট হোল্ডিং-এর সংখ্যা ৬৬ হাজার ৪৬৯টি। এসব হোল্ডিং-এর মধ্যে এক হাজার ২৫৫টি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকি, পিট ল্যাট্রিন, তলা বিহীন ল্যাট্রিনের মল সরাসরি ড্রেনে নির্গত হচ্ছে। যার কারনে দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দুষণ হচ্ছে।
অনেক সময় আশেপাশে বসবাসকারী প্রতিবেশীদের স্বাস্থ্যহানীও ঘটছে। তবে মৌখিকভাবে অবহিত করায় ৭০৭টি বাড়ির মালিক ল্যাট্রিন মেরামত করে। কিন্তু তলাবিহীন ল্যাট্রিনের ৫৪৮ বাড়ির মালিককে নোটিশ দেয়ার পরও সাড়া দিচ্ছে না। বাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে কেসিসি’র ১নং ওয়ার্ডে ৩৯টি, ২নং ওয়ার্ডে ১৮টি, ৩নং ওয়ার্ডে ১৪টি, ৪নং ওয়ার্ডে ৪২টি, ৬নং ওয়ার্ডে ১৪টি, ৭নং ওয়ার্ডে ১৪টি, ৮নং ওয়ার্ডে ২৮টি, ৯নং ওয়ার্ডে ১৪টি, ১১নং ওয়ার্ডে ১০টি, ১২নং ওয়ার্ডে ১৯টি, ১৩নং ওয়ার্ডে ২৮টি, ১৪নং ওয়ার্ডে ১৮টি, ১৫নং ওয়ার্ডে ৪৯টি, ১৬নং ওয়ার্ডে ৩২টি, ১৭নং ওয়ার্ডে ৩১টি, ১৮নং ওয়ার্ডে ৭টি, ১৯নং ওয়ার্ডে ১৩টি, ২০নং ওয়ার্ডে ২১টি, ২১নং ওয়ার্ডে ১০টি, ২২নং ওয়ার্ডে ১২টি, ২৩নং ওয়ার্ডে ৫টি, ২৪নং ওয়ার্ডে ১০টি, ২৫নং ওয়ার্ডে ৮টি, ২৬নং ওয়ার্ডে ১০টি, ২৭নং ওয়ার্ডে ৫টি, ২৮নং ওয়ার্ডে ১৪টি, ৩০নং ওয়ার্ডে ২৮টি ও ৩১নং ওয়ার্ডে ৩৫টি।
সিটি কর্পোরেশন অধ্যাদেশ-২০০৯’এর ৪১ ধারায় তৃতীয় তফসিলের উপ-ধারায় ১(৯) উল্লেখ রয়েছে- যে সকল ঘরবাড়িতে পায়খানা বা প্র¯্রাবখানা আছে সে সকল ঘরবাড়ির মালিক তা কর্পোরেশনের সন্তুষ্টি অনুযায়ী সঠিক অবস্থায় রাখবে। কোনভাবেই বসবাসরত এলাকায় পরিবেশ দুষণ করা যাবে না। কেউ এ ধরনের কাজ করলে তা হবে আইনের পরিপন্থী।
এ ব্যাপারে কেসিসি’র কঞ্জারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, বাড়ির সেপটিক ট্যাংকি, পিট ল্যাট্রিন, তলা বিহীন ল্যাট্রিনের মল সরাসরি ড্রেনে নির্গত করা যাবে না।
কারণ এতে পরিবেশ দূষিত হয়। যার কারনে সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায় না। তিনি বলেন, ৭০৭টি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকী ও পিট ল্যাট্রিনে সামান্য সমস্যা ছিলো। তাদের মধ্যে অনেকেই মেরামত করে কর্পোরেশনকে অবহিত করেছে। এটা নিয়ে আমরা যখনই জানতে পারছি তখনই তাদেরকে ওই ল্যাট্রিন সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি। অনেকেই আবার কথা শোনেনা। তাদেরকে আমরা একাধিকবার নোটিশ দিচ্ছি। যারা তাও মানছে না তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
s
