হোম জাতীয় খানজাহান আলী বিমানবন্দর নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী

খানজাহান আলী বিমানবন্দর নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 91 ভিউজ

জাতীয় ডেস্ক:

ব্যক্তিখাতের কেউ বিনিয়োগ করলেই কেবল খানজাহান আলী বিমানবন্দর করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান। এটিতে কেবল কার্গো ফ্লাইট চালু করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সময় সংবাদকে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মোংলা বন্দরের অদূরে খুলনা-মোংলা সড়কের পাশে রামপালের ফয়লায় খানজাহান আলী বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজে গতি আসেনি গেল ২৭ বছরেও। কবে এটি বাস্তবায়ন হবে; সেই নিশ্চয়তাও মিলছে না কারও কাছ থেকে। পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ার পর এ বিমানবন্দরের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।

ছোটো ছোটো বিমানবন্দর করার কথা ছিল, যেমন খানজাহান আলী বিমানবন্দর। এগুলো নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা সামনে এসব বিষয় নিয়ে বসব। খানজাহান আলী বিমানবন্দর আমি তখনই করব, যখন ব্যক্তিগত খাতের কোনো লোক এসে এখানে বিনিয়োগ করবেন। বরিশাল বিমানবন্দর এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। লোকজন আগে বরিশালে যেত বিমানে, কিন্তু এখন তারা সড়কপথে যাতায়াত করেন। ঢাকা থেকে পাঁচ ঘণ্টায় এখন বরিশাল পৌঁছানো যায়।

খানজাহাজন আলী বিমানবন্দর সম্পর্কে নিজের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোনো বিদেশি এসে কন্ট্রাক্ট বা লিজ নেয় যে তারা এটি চালু করবে, তখনই চালু করা হবে। আমার মতে, খানজাহান আলী বিমানবন্দরে একমাত্র কার্গো ফ্লাইট চলতে পারে। কাজেই কেউ আসুক, বলুক যে আপনাদের জমি আপনাদেরই থাক, ফিফটি-ফিফটি আমরা বিমানবন্দরটা চালু করব, তখন এটা চালু হতে পারে।’

তবে বিমানবন্দরটি দ্রুত চালু করার দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের। তারা বলছেন, বিমানবন্দর না থাকায় খুলনা-বাগেরহাটে আসতে চান না বিদেশি ব্যবসায়ীরা। পর্যটকও বাড়ছে না সুন্দরবনে। খুলনা থেকে প্রায় আড়াই-তিন ঘণ্টা সড়ক পথ পাড়ি দিয়ে যশোর বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রা করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে যান ব্যবসায়ীরা। বাগেরহাটের এ বিমানবন্দরটি চালু হলে আয় বাড়বে মোংলা বন্দরেরও।

খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৯৬ সালে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। বিমানবন্দরটিকে ‘শর্ট টেক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং বন্দর’ হিসেবে গড়ে তুলতে ৪১.৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাট করা হয়েছে। তারপর ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর বিমানবন্দরটির উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।

এরপর ২০১১ সালের ৫ মার্চ খানজাহান আলী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আরও ৬২৬.৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির চার বছর পর ২০১৫ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন মেলে। একই বছরের জুলাইয়ে ফের শুরু হয় প্রকল্পটির কাজ। এরপর কেটে গেল আরও ছটি বছর।

জমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ছাড়া কোনো কাজই হয়নি। প্রকল্প এলাকায় একটি সাইনবোর্ড থাকায় কেবল এটির অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, খানজাহান আলী তো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) করার প্রস্তাব রয়েছে। এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা আছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সময়ে এ নিয়ে অনেক বৈঠক হয়। এ নিয়ে জটিলতাও রয়েছে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষের যাতায়াত সহজ হয়ে গেছে। যে কারণে খানজাহান আলী বিমানবন্দরে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসছেন না। কারণ এখানে বিনিয়োগ করা তাদের জন্য কতটা লাভজনক হবে; তা নিয়ে তারা সন্দিহান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক প্রকৌশলী বলেন, ‘বিমানবন্দরটি পিপিপিতে হওয়ার কথা। কিন্তু তারা এটিকে লাভজনক বিবেচনা করছেন না। সম্ভাব্যতা যাচাই করেও দেখা গেছে, আসলে পিপিপিতে এটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। পিপিপিতে ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফাইন্যান্সিং (ভিজিএফ) নামের একটি তহবিল রয়েছে। সেখান থেকে তহবিল প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ এটি বাস্তবায়নে সরকারেরও সহায়তা লাগবে।

বেবিচক কর্মকর্তা আরও বলেন, সর্বোপরি এটিকে নিড অ্যানালাইসিস (প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ) করতে হবে। কারণ পদ্মা সেতু হওয়ার পর বরিশাল বিমানবন্দরের যাত্রী কমে গেছে। পরিবর্তিত এ পরিস্থিতিতে খানজাহান আলী বিমানবন্দর কতটা লাভজনক বা কার্যকর হবে (যেটা আগেই ভায়াবল ছিল না), তা ভেবে দেখতে হবে। হয়তো এটি কার্যকারিতার পর্যায়ে যেতে কিছুটা সময় লাগবে। যে কারণে খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন