জয়দেব চক্রবর্ত্তী, কেশবপুর (যশোর) :
যশোরের কেশবপুরে চলতি বোরো মওসুমে সরকারি বোরো ধান বীজ উৎপাদন প্রদর্শণীর প্লটে বিএডিসি‘র ব্রি-ধান-৬৩ জাতের ভেজাল ভিত্তি বীজ আবাদ করে কৃষক প্রতারিত হয়েছেন। ভেজালের কারণে বীজ সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত উঠেছে। উপজেলার বাগদা-দেউলী বিলে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের প্রদর্শণী প্লটে শতকরা ২০ ভাগ বেশী বীজ ভেজাল সনাক্ত হয়। কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিএডিসি‘র (বীজ) উপপরিচালককে পত্র দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মওসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কেশবপুর অফিসের অর্থায়নে উপজেলার বাগদা-দেউলী বিলে গ্রুপ চাষী পর্যায়ে ১৫ বিঘা জমিতে বিএডিসি‘র ব্রি-ধান-৬৩ জাতের ভিত্তি বীজ আবাদ করা হয়। কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্যা ও ব্লাস্ট প্রতিরোধে সময় মত বালাইনাশক স্প্রে করায় বাম্পার ফলন আশা করছিল। কিন্তু ধানের শীষ বের হওয়ার সাথে সাথেই কৃষকের মাথায় হাত ওঠে। ব্রি-ধান-৬৩ জাতের শীষ বের হওয়ার আগেই খেতের শতকরা ২০ ভাগ ধানে শীষ বের হয়ে যায়। যার অধিকাংশই ব্রি-ধান-২৮ জাতের ধান।
দেউলী গ্রামের আব্দুর রহিম ও বাগদা গ্রামের কৃষক ইনছার সরদার জানান, বোরো মওসুমে তারা ওই ব্লকে উপজেলা কৃষি অফিসের অর্থায়নে বীজ উৎপাদনের জন্যে ৫ একর জমিতে ব্রি-ধান-৬৩ জাতের ধানের আবাদ করেন। কৃষি অফিস থেকে বিঘাপ্রতি ৫ কেজী বিএডিসি‘র ব্রি-ধান-৬৩ জাতের ভিত্তি বীজ ও রাসায়নিক সার দেয়া হয়। কিন্তু বীজ ধান ভেজাল হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াসহ বীজ সংরক্ষণ করতে না পারায় তারা হতাশ হয়ে পড়েন।
ওই ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, ব্রি-ধান-২৮ জাতের চেয়ে ব্রি-ধান-৬৩ জাতের ধানের জীবনকাল ৮/৯ দিন বেশী। ব্রি-ধান-৬৩ জাতের ধানে এখন শীষ বের হচ্ছে, অথচ ব্রি-ধান-২৮ জাতের ধান পেকে গেছে। এছাড়া, ব্রি-ধান-২৮ জাত পূরনো হওয়ায় খেতে ব্লাস্টের আক্রমন ঠেকাতে কৃষকদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ফলে ভেজালের কারণে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, ওই ব্লকের ব্রি-ধান-৬৩ জাতের ধান খেতে শতকরা ২০ ভাগ বেশী ভেজাল বীজ পাওয়া গেছে। যার অধিকাংশই ব্রি-ধান-২৮ জাতের ধান। কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় অতি শিঘ্রই যশোর বিএডিসি‘র উপপরিচালককে (বীজ) ক্ষতিপূরণ চেয়ে পত্র দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে যশোর বিএডিসি‘র (বীজ) উপপরিচালকের মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
