হোম অন্যান্যসারাদেশ কেশবপুরের সাধারণ মানুষের বোবা কান্না : সরকারের খাদ্য সহায়তা অপ্রতুল

কেশবপুরের সাধারণ মানুষের বোবা কান্না : সরকারের খাদ্য সহায়তা অপ্রতুল

কর্তৃক
০ মন্তব্য 167 ভিউজ

জয়দেব চক্রবর্ত্তী ,কেশবপুর :

যশোরের কেশবপুরে করোনা ভাইরাসের কারণে গৃহবন্দি সাধারণ মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। সরকারি ভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে তাতে জনপ্রতিনিধিরা পড়ছেন বিপাকে। দরিদ্র দিন মজুর, ভ্যান শ্রমিক, ইজি বাইক চালক, মহেন্দ্র চালক, মোটর শ্রমিক, সেলুন দোকানি, চা বিক্রেতা থেকে শুরু করে মধ্য বিত্ত ও নিন্মমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ চরম দুর্দশা গ্রস্থ হয়ে পড়েছে। মানুষের ভিতর চলছে বোবা কান্না । লোজ লজ্জার ভয়ে মুখ ফুটিয়ে বলতে পারছেন না অনেকেই।

সরকারি ভাবে যে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আর এসব খাদ্য সহায়তা বিতরণ করতে গিয়ে চেয়ারম্যান মেম্বাররা পড়ছেন জনরোষে। অনেকেই নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, এভাবে আর এক মাস চলতে থাকলে আগামি দিনে উপজেলার কোন চেয়ারম্যান মেম্বারকে জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাওয়া লাগবে না।

অপর দিকে বিভিন্ন সময়ে ভোটের সময় কেশবপুর আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য যে সমস্ত ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ফটোসেশন করে থাকেন তারা হয়েছেন লাপাত্তা। জনগণের দূর্ভোগের সময় তাদের টিকিটি পর্যন্ত খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের বোবা কান্না কেউ শুনতে পাচ্ছে না। বা শোনার চেষ্টাও করছে না। চায়ের দোকানী ও সেলুন কাজের সাথে জড়িতদের অধিকাংশ জানায়, তাদের নাম চৌকিদারে লিখে নিয়ে গেছে ২০ দিন আগে । কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা কোন সহায়তা পায়নি। সব মিলিয়ে কেশবপুরে চলছে মানুষের বোবা কান্না। রাজনৈতিক নেতাদের ভিতর এক মাত্র যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার তার নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্য সহায়তায় হাত বাড়িয়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের হাতে যে বরাদ্দ দেন সেটাই তারা বিলি কওে থাকেন। এ রিপোর্ট রেখা পর্যন্ত কেশবপুরের ১১টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে মাত্র ৩০ জন ব্যক্তি খাদ্য সহায়তার আওতায় এসেছে। এ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে জনদরদি অনেকেই স্বল্প সংখ্যক খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন। যার পরিমান অতি সামান্য।

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, সরকারের পাশাপাশি তিনি তার পৌর এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন , তবে এ মুহুর্ত্বে তিনি সরকারের সহায়তার অপেক্ষায়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিজিবুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত কেশবপুর উপজেলায় ১শ ৪০ মেট্রিক টন জি আর চাউল, ৫লাখ ৩২ হাজার জি আর ক্যাশ টাকা, ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য পাওয়া গেছে। বৃহষ্পতিবার বিতরণ শেষ হলে মোট ১শ ২১ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে। খাদ্য সহায়তা হিসেবে চেয়ারম্যনরা এ গুলি বুঝে নিচ্ছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন