কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পরিবহন ব্যবসায়ী নবী হোসন হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সে সাথে প্রত্যেক আসামিকে ২ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহিম এই রায় করেন।
সে সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাজী নজরুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুমনা বেগম ওরফে শিলা ছিলেন পলাতক।
বেকসুর দুই আসামি হলেন, মোঃ আশরাফুল হক রাসেল ও মোঃ শরিফ মিয়া।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী রেখে কয়েক বছর আগে নবী তাকে বিয়ে করে ভৈরব শহরে বাসা ভাড়া করে রাখেন।
কিন্তু; কিছুদিন ধরে বাল্যবন্ধু নজরুলের সঙ্গে সুমনা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। নজরুল মুঠোফোনে তাদের কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে নবীকে সে ভিডিও দেখানোর হুমকি দিয়ে সুমনার সঙ্গে মেলামেশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন নজরুল। এসব কারণে নজরুলকে নিয়ে নবীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সুমনা।
২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর রাতে নবীকে বাসায় ডেকে আনেন সুমনা। রাত দুইটার দিকে নজরুল ঘরে ঢুকে চাপাতির আঘাতে নবীকে সংজ্ঞাহীন করেন।
পরে দুই সহযোগীকে নিয়ে গলা কেটে নবী হোসেনকে হত্যা করে হাত, পা, মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ৬টি ভাগ করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ফেলেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিলকিস বেগম বাদি হয়ে মামলা রুজুর পর ২৫ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজ গ্রাম বিজেশ্বরে পালিয়ে যান নজরুল ও সুমনা। সেখান থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ ইমাম রায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জামিনে বেরিয়ে মামলার এক নং আসামি সুমনা বেগম ওরফে শিলা পলাতক হন।
s
