হোম খেলাধুলা কিউইদের হারিয়ে সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখল ইংল্যান্ড

খেলাধূলা ডেস্ক :

বাঁচামরার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ম্যাচ হেরে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কিউইদের শেষ চারে খেলা। গ্রুপ-১ থেকে কোন দুই দল শেষ পর্যন্ত সেমির টিকিট নিশ্চিত করবে, সেটা জানা যাবে সুপার টুয়েলভের সব খেলা শেষেই।

ব্রিসবেনে মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) নিউজিল্যান্ডকে ২০ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ১৮০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে কিউইদের ইনিংস থেমেছে ১৫৯ রানে।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় নিউজিল্যান্ড। ৯ বলে ৩ রান করে বাটলারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ডেভন কনওয়ে। ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি আরেক ওপেনার ফিন অ্যালেনও। তিনি ফিরে যান ১১ বলে ১৬ রান করে। ২৮ রানে দুই টপ অর্ডার ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে কিউইরা।

অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে সে চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন। তাকে সঙ্গ দিতে আসা গ্লেন ফিলিপস শুরু থেকে মারকুটে ব্যাটিংয়ে উল্টো চাপে ফেলেন ইংল্যান্ডের বোলারদের। দুজনের ব্যাটে ভর করে বেশ ছন্দেই ছিল নিউজিল্যান্ড। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা ফিলিপস এদিন তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি।

কিন্তু বেন স্টোকস ইনিংসের ১৫তম ওভারে এসে উইলিয়ামসনকে সাজঘরে ফেরালে ব্যাটিংয়ে কিছুটা ছন্দপতন হয় কিউইদের। ৪০ বলে ৪০ রান করে রশিদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্ল্যাক ক্যাপস অধিনায়ক। তার ইনিংসে বাউন্ডারি ছিল মাত্র ৩টি। এরপর চতুর্থ উইকেটে ব্যাট করতে নেমে ৩ বলে ৬ রান করে মার্ক উডের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন জেমস নিশাম।

শেষ ৩০ বলে জয়ের জন্য কিউইদের যখন ৫৭ রান প্রয়োজন, তখন ১৬তম ওভারে এসে মাত্র ৩ রান দেন মার্ক উড। পরের ওভারে আক্রমণে এসে আরও দুর্দান্ত ছিলেন ক্রিস ওকস। মাত্র ৫ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন ড্যারিল মিচেলের উইকেট। লং অনে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ঠিক সীমানার কাছে তিনি ধরা পড়েন ক্রিস জর্ডানের হাতে। মিচেল ৫ বলে ৩ রান করেন।

১৬ বলে যখন ৪৫ রান প্রয়োজন তখন দলের একমাত্র আশার প্রদীপ হয়ে থাকা ফিলিপসও ফিরে যান সাজঘরে। স্যাম কুরানকে লং অনের ওপর দিয়ে ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন মিচেলের মতো। ৩৬ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কার মারে ৬২ রানে থামে তার ইনিংস।

ফিলিপসের বিদায়ে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় ইংল্যান্ডের জয়। গ্যালারিতে তাই ইংলিশ সমর্থকরা তখনই বিজয় উদযাপন শুরু করে দেন। ওকস-কুরানদের বোলিং তোপে শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।

৪ ওভার বল করে ২৬ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন স্যাম কুরান। আরেক পেসার ক্রিস ওকস ২ উইকেট তু্লতে খরচ করেন ৩৩ রান। একটি করে উইকেট তুলে নেন মার্ক উড ও বেন স্টোকস।

এ জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে ৪ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে আসল ইংল্যান্ড। শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ড এবং তিনে নেমে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টও সমান ৫। তবে টেবিলে তাদের অবস্থানের পার্থক্যটা হয়েছে নেট রান রেটের কারণে। কোন দুই দল গ্রুপ-১ থেকে সেমিফাইনাল খেলবে সে জানতে তাই অপেক্ষা করতে হবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।

এ জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে ৪ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে আসল ইংল্যান্ড। শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ড এবং তিনে নেমে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টও সমান ৫। তবে টেবিলে তাদের অবস্থানের পার্থক্যটা হয়েছে নেট রান রেটের ভিত্তিতে। কোন দুই দল গ্রুপ-১ থেকে সেমিফাইনাল খেলবে সেটা জানতে তাই অপেক্ষা করতে হবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের তুলনায় নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় কিছুটা ব্যাকফুটে স্বাগতিকরা।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন