হোম ফিচার কালিয়ায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় পরাজিত সদস্য প্রার্থী ও নারীসহ আহত ৩০,আটক-৮, তিনটি বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুরসহ ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

নড়াইল অফিস :

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউপি নির্বাচনের পর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনোত্তর ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। সহিংসতায় পরাজিত সদস্য প্রার্থীসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নবনির্বাচিত সদস্য প্রার্থীরসহ তিনটি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে দুইটি মোটর সাইকেল ও একটি ইজিবাইক ভাঙচুরসহ ব্যাপক তান্ডব করে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২নভেম্বর) অনুষ্ঠিত পাঁচগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্যপদে সাখাওয়াত মন্ডল (টিউবওয়েল প্রতীক) ও বুলু শেখ (বল প্রতীক) নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ভোট গ্রহণের পর সাখাওয়াত মন্ডল (টিউবওয়েল প্রতীক) নির্বাচিত হন। এরপর বিজয় মিছিল করলে উভয় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পরাজিত সদস্য প্রার্থী বুলু শেখ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

নির্বাচনের দিন সংঘটিত এ সংঘর্ষের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নবনির্বাচিত সদস্য সাখাওয়াত মন্ডলের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরাজিত সদস্য প্রার্থী বুলু শেখের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে পরাজিত সদস্য প্রার্থী বুলু শেখ (৫০)সহ উভয়পক্ষের রাণী বেগম (৫০),মুক্তি মন্ডল (৪৫),সিদ্দিক শেখ (৫৫),কামরুল শেখ (৪০),নুরু মন্ডল (৩৫), জিয়া মন্ডল (৩৫),সাফায়েত শেখ (৩২),লিপন শেখ (৪৩), মারুফ মন্ডল (৬০),পিটুল মিনা (৪০)সহ প্রায় ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে মহিষখোলা গ্রামে নবনির্বাচিত সদস্য সাখাওয়াত মন্ডল,শামসুর রহমান, ও ইসমাইল শেখের তিনটি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এসময় হামলাকারী দুইটি মোটর সাইকেল,একটি ইজিবাইক ভাঙচুরসহ ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

সংবাদ পেয়ে কালিয়া থানার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ প্রসঙ্গে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ তাসমীম আলম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ঘটনাস্থল থেকে অটজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন