কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
কালিগঞ্জ উপজেলার পাউখালিতে অবস্থিত প্রায় শতবছরের সার্বজনীন মহাশ্মশানের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক সনৎ কুমার গাইন ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গ্রাম্য ডাক্তার মিলন কুমার ঘোষ জানান গত কয়েক মাস আগে উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় শ্মশানের জায়গা দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করে প্রভাবশালী এক নেতা। আমরা ওই সময়ে প্রতিবাদ করে সেটি প্রতিহত করি।
এর কয়েক মাস পর পাউখালিতে অবস্থিত শতবছরের সার্বজনীন শ্মশানের উপর দিয়ে পিচের রাস্তা তৈরি করার ঘটনাটি খুবি দুঃখ জনক। সনাতন ধর্মালম্বীদের মৃত্যুর পর সৎকার করার শ্মশানের স্থানটি বাদ রেখে রাস্তায় করা হোক। এ বিষয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পাউখালি ব্রিজ হতে প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আদি যমুনা নদীর পাশ দিয়ে দুই কিলোমিটার পিচের রাস্তার কাজ চলছে। রাস্তাটির কাজ ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের নামে টেন্ডার হলেও কাজ করছে ঠিকাদার মতিউর রহমান ওরফে ভাটা মতি।
ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিডিউল অনুযায়ী রাস্তার কাজ চলছে। রাস্তাটি আমার নামে টেন্ডার হলেও কাজ করছে মতি। পাউখালী শ্মশান কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান কুশুলিয়া মথুরেশপুর ইউনিয়নের সনাতন ধর্মালম্বী মৃত মানুষদের সৎকাজ করার জন্য এই শ্মশান দীর্ঘদিন ব্যবহার করে আসছে ষরাস্তার কাজ শুরু করার আগে এ সমস্যার সমাধান করা। তাহলে এ বিতর্কে পড়তে হতো না।
উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, শ্মশানের উপর দিয়ে রাস্তা যাচ্ছে এটা আমার জানা নেই। শ্মশানের উপর দিয়ে রাস্তা করে আমরা ধর্মীয় অনুভূমিতে আঘাত করতে চাই না। পাউখালি থেকে কত কিলোমিটার রাস্তা হচ্ছে আমি সকালে আপনাকে জানাতে পারবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি সমস্যা হয়ে থাকে অবশ্যই সমাধান করা হবে। এদিকে পাউখালী মহা শ্মশানের স্থান বহাল রাখতে কালিগঞ্জ পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ আগামী শনিবার ঐ স্থানে একটি সমাবেশের আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে।
