অনলাইন ডেস্ক :
কলারোয়ায় দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা অফিসের কর্মকর্তা ও ফিল্ড সহকারী কতৃক লুট আর দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে প্রকল্পের চলমান প্রক্রিয়া। যে স্বপ্ন নিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রকল্পের সেই স্বপ্নের বাস্তবটা বাস্তবায়ন হচ্ছেনা কলারোয়াতে।
একটি বাড়ি একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রকল্প থেকে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ০১টি পৌরসভায় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা। যার মধ্যে ঋণ খেলাপি প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়াও বেশ কিছু সদস্যের অনাদায়ী দেখানো হলেও অনেকেই তাদের পাওনা টাকা পরিষদ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।নতুন সমিতি করে সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে সঞ্চয়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঋণ প্রদানের।
জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩৭২ টি সমিতির আওতায় ২০ হাজার ৮শ জন সদস্য রয়েছেন। একাধিকবার বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে কয়েক কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিল্ড সুপারভাইজার ও মাঠ সহকারী সরকারি আইনকে তোয়াক্কা না করেই নিজ পরিবারের সদস্যদের নামসহ পরিচিতদের নাম দিয়েও একাধিকবার ঋণ নিয়েছেন, সমিতির জুনিয়র অফিসার সালমা খাতুন তার স্বামী দেয়াড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মতিউর রহমানের নামে প্রভাব খাটিয়ে ৮০,০০০ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এছাড়া মাঠ সহকারী আবু সাঈদ, জহুরুল, মোকলেছুর, পারুল, সাবিনা সহ কয়েকজনের পরিবার ও শশুরবাড়ীর সদস্যের নামে নিয়ম বর্হিভুতভাবে মোটা অংকের ঋণ নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় সদেস্যের তালিকায় চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ ধনী ব্যক্তিদের নামও রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি বাড়ি একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কলারোয়া শাখা থেকে ঋণ নেওয়া প্রত্যেক সদস্যদের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের জন্য ২০০টাকা ঘুষ এবং এসএমই ও কর্মসৃজন ঋণ নেওয়ার জন্য ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়। ঘুষ দিতে রাজী না হলে জুনিয়র অফিসার সালমা খাতুন বিভিন্ন কারন দেখিয়ে তাদের এসএমই ও কর্মসৃজন ঋণ আটকে দেন।
জুনিয়র অফিসার সালমা খাতুন বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে কলারোয়া শাখা থেকে ২০লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করে তালা উপজেলার ইসলামকাঠি ইউনিয়নের কাজীডাঙ্গা সুনশাহ গ্রামে ও খুলনার ময়লাপোতা এলাকায় জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া সমিতির অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর পলাশের বিরুদ্ধে উপজেলার বিভিন্ন সমিতি ০৬লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতোমধ্যে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
কলারোয়াতে যোগদান করার পরে উপজেলা সমন্বয়কারী আরিফুজ্জামান যোগদানের পর তিনি উপজেলার স্থানীয় মাঠ সহকারীদের দুর্ণীতি ও অনিয়মের লাগাম টানতে ব্যার্থ হন। ফলে দায়িত্বরতদের অবহেলা অনিয়ম আর দুর্নীতির ফলে সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত আর সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড থেমে যাওয়া সহ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। শুধু তাই নয় ফিন্ড সুপারভাইজার সালমা খাতুন সহ কিছু মাঠ কর্মীর সহায়তায় মাঠ থেকে টাকা আদায় করে নিজেদের কাজে ব্যয় করাসহ পকেট ভরিয়ে সদস্যদের বিভিন্নভাবেও হয়রানি করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার অধিকাংশ সমিতির সদস্যদের সাথে কথা বলে যানা যায়, অনেকেই প্রায় ৪-৫ মাস আগে ঋণ পরিষদ করলেও তাদের ঋণ না দিয়ে আজ কাল করে অজ্ঞাত কারণে ঘুরানোসহ কৈশলে উৎকোচ দাবি করছে। অভিযুক্ত সুপারভাইজার সালমা খাতুনের সাথে তার মোবাইল ফোনে কথা হলে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করেই বলেন অফিসে স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ০১টি পৌরসভার সকল সভাপতি ও ম্যানেজার বৃন্দ অনতিবিলম্বে জুনিয়র অফিসার সালমা খাতুন, পলাশ, আবু সাঈদ, জহুরুল, মোকলেছুর, পারুল, সাবিনা সহ দুর্ণীতির সঙ্গে জড়িত সকল কে শাস্তিমূলক বদলি ও বিভাগীয় মামলার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এলাকার সকল নাগরিক ও জনসাধারন সরকারী অর্থ তছরুপকারী দুর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদক খুলনা ও ঢাকা অফিসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনিয়ম আর দুর্নীতি অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা সমন্বয়কারী মো.আরিফুজ্জামান বলেন, আমি অফিসে যোগদানের পূর্বে অফিসে যে সকল সমস্যা ছিল সব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার কে তিনি দুর্ণীতিবাজ অফিসার সালমা খাতুনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের ব্যাপারে জানিয়েছেন বলে জানান।
একটি বাড়ি একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কলারোয়া শাখায় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন বিভিন্ন মাধ্যমে আমি তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে গত ০৭তারিখে উপজেলা অডিটোরিয়ামে তাদেরকে সতর্ক ও সংশোধনের ন্য বলেছি আপনার অভিযোগটি ও শুনলাম তাদের দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
