আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতে করোনা আতঙ্কে বিরোধী দল কংগ্রেসের চলমান ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ কর্মসূচি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। দলটির নেতা রাহুল গান্ধী ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকে এ মর্মে একটি চিঠি দিয়েয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) চিঠিটি পাঠানো হয়। চিঠিতে তিনি ভারত জোড়ো যাত্রা’য় করোনাবিধি অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তা করা না গেলে আপাতত এই পদযাত্রা বন্ধ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনে মারাত্মক আকার ধারণ করছে করোনা। চিঠিতে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’য় অংশগ্রহণকারী সকলকে মাস্ক পরা ও স্যানিটাইজার ব্যবহারে জোর দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র কোভিডের প্রতিষেধক নেয়া ব্যক্তিরাই যাতে এই পদযাত্রায় শামিল হন, তা নিশ্চিত করতে হবে সংগঠকদের।
‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই চিঠি নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়়িয়েছে। কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেছেন, গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী যখন প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তখন কোনো করোনাবিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রার সাফল্যকে সহ্য করতে পারছেন না।’
একইসুরে কংগ্রেস নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের ছেলে কার্তি চিদম্বরম বলেছেন, ‘আমি ওই চিঠি দেখিনি। কিন্তু বর্তমানে (দেশে) কী কী করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিধি মেনে চলা হচ্ছে? অন্যান্য জমায়েতে তো কোনো করোনা বিধি নেই। যদি বিজেপি ভয় না পেয়ে যায়, তাহলে ভারত জোড়ো যাত্রার দিকে আচমকা নজর পড়ল কেন?’
কংগ্রেস ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল। কিন্তু হিন্দুত্ববাদকে পুঁজি করে রাজনীতি করা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে ভোটের রাজনীতিতে গত এক দশক ধরে ধরাশায়ী হয়েছে দলটি। ২০২৪-এর লোকসভা ভোট সামনে রেখে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীতে একটি সমাবেশের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দলটির নেতারা।
যার নেতৃত্বে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। ৫ মাসে দীর্ঘ ৩ হাজার ৫৭০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ১২টি রাজ্য অতিক্রম করে এই লংমার্চ শেষ হবে সর্বোত্তরের রাজ্য কাশ্মীরের শ্রীনগরে গিয়ে। যাত্রা শুরুর পর এখন পর্যন্ত ছয়টি রাজ্য ছুয়েছেন এ কর্মসূচি। এ যাত্রায় প্রতিদিনই হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক অংশ নিচ্ছেন। ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ ৮টি রাজ্য পেরিয়ে বুধবার (২১ ডিসেম্বর) হরিয়ানায় প্রবেশ করেছে।
