স্বাস্থ্য ডেস্ক :
চলতি মাসের শুরু থেকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেছে। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা, শতক পেরিয়ে তা হাজার ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি। তবে করোনায় শনাক্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে। বুধবার করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৪১ জন। যা গতকাল মঙ্গলবার ছিল ২ হাজার ৮৭ জনে।
বুধবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, বুধবারে দেশে করোনায় মৃত্যু না হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ১৪৫ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে। অপর দিকে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৬০২ জনে। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার বেড়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের ৮৮০টি ল্যাবরেটরিতে ১৪ হাজার ৯১২টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৪ হাজার ৭১২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
মহামারি শুরুর পর থেকে দেশে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯৪ লাখ ৩০ হাজার ১৫৪টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৯ লাখ তিন হাজার ৯২৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৫২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৭ হাজার ২১৯ জন।
এদিকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মাস্ক পরিধানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে ৬ নির্দেশনা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চলাচল ও সার্বিক কার্যাবলীর ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা জারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এ ছাড়াও দেশে হঠাৎ করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর।
এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা সফল হয়েছিলাম কিন্তু আবারও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। আমরা আতঙ্কিত না হলেও চিন্তিত।
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।
