হোম অর্থ ও বাণিজ্য এ যেন ঘোষণা দিয়ে ডাকাতি

বাণিজ্য ডেস্ক :

ঢাকায় যেন গায়েবি পদ্ধতিতে চলছে ভোজ্যতেলের বাজার। বিক্রির বেলায় সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম মানছেন না কেউই। রাজধানীর মৌলভীবাজারের সঙ্গে অদৃশ্য সমঝোতায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছে ভোক্তারাও জিম্মি। অনিয়মের এ চিত্র দেখে একে ব্যবসায়ীদের ‘ঘোষণা দিয়ে ডাকাতি’ বলে অবহিত করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

শনিবার (৯ এপ্রিল) সকালেই ২০ হাত দূরত্বের পাইকারের কাছ থেকে সয়াবিন তেল কিনেছেন। কিন্তু তিনি দেননি রসিদ। অভিযানে জরিমানার পর ধরনা দিয়েও রসিদ পাচ্ছেন না পাইকারের কাছে। এতে দুজনকেই পেতে হলো অর্থদণ্ড।

মিরপুর শাহ আলী মার্কেটে বড় পাইকারের সংখ্যা ৫টি। প্রতিটিতেই অভিযান চালানো হয়। কোথাও কেউই দেখাতে পারলেন না তেল কেনার রসিদ। এ সময় জানা গেল, মিল আর বাজারের মধ্যে সরবরাহকারী মধ্যস্বত্বভোগীর অস্তিত্ব।

তবে জরিমানা গোনার পরই শোনা গেল সব দায় মৌলভীবাজারের ডিলারদের।

জরিমানা দেওয়া এক বিক্রেতা বলেন, ‘এখানে তিনটি তেলের দোকান রয়েছে। আমরা তিনজনই তেল বিক্রি করি। আমরা কোম্পানি থেকে কোনো তেল পাই না। আমরা কোম্পানি থেকে পণ্য চাই, আমাদের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হোক। আমরা বিক্রি করব। আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

ভোজ্যতেলের বাজারে এমন অনিয়ম ঠেকাতে তৎপর সরকারও। কেউ বেশি দাম চাইলে তাৎক্ষণিক অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু কেউই জানান না কিছুই।

এদিকে জরিমানা দেওয়া আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘টাকা পুরোপুরি পরিশোধ করার পর ক্রয়ের রসিদ দেওয়া হয়। আজ রাতে রসিদ দেওয়ার কথা ছিল। জরিমানা এড়াতে আমি রসিদ চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা বলছেন রসিদ দেবেন না।’

এসব অনিয়মকে ‘ঘোষণা দিয়ে ডাকাতি’ করার সঙ্গে তুলনা করছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সংস্থাটি বলছে, এমন অনিয়ম দ্বিতীয়বার পেলে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে লাইসেন্সও বাতিল করা হবে।

অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা আইন অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছি। তিনটি বড় প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুটি ছোট প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে শাহ আলী মার্কেটের ৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন