হোম ফিচার এভাবে আর কত দিন খেতে হবে!উত্তর দিতে পারছে না অসহায় পিতা

নিজিস্ব প্রতিনিধি
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না। সেই প্রখ্যাত গানের কথা চলে আসে প্রাকৃতিক দূর্যোগকালীন সময়ে অসহায়, হতদরিদ্র, ছিন্নমূল মানুষের নিদারুন কষ্টের কথা প্রকাশ করতে। চলছে সারা বিশ্বে প্রাকৃতিক দূর্যোগ নবেল করোনা ভাইরাসের মহামারী। এর থেকে রেহাই পাইনি ক্ষুদ্র লাল সবুজের বাংলাদেশ। দেশের আনাছে কানাছে শহরের অলিতে গলিতে রয়েছে হাজারো হতদরিদ্র ,ছিন্নমূল, নি¤œ আয়ের মানুষ। কর্মহীন গৃহবন্ধী মানুষগুলো তীব্র খাদ্র সংকটে ভুগছে। সরকারী-বেসরকারী ভাবে ত্রান তৎপরতা অব্যহত থাকলেও অনেকেই নজরে না আসায় থাকছে অভুক্ত। এমনি একটি পরিবারের কথা নিয়ে আপনাদের সামনে এসেছি।জানি বার বার এ প্রতিবেদকের মানবতার গল্প পড়তে অনেকটাই বিরক্তবোধ করবেন। তবুও অনুরোধ করে বলছি একটু না হয় কষ্ট করে পড়লেন। নাই বা কিছু করলেন। অনন্ত দৈনন্দিন আয় করা মানুষের হঠাৎ কর্মহীন যে কত কষ্টের একটু উপলদ্ধিই করলেন। লিখছি বিল্লাল নামের ৩৩ বছর বয়সী খেটে খাওয়া এক যুবকের কথা। সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটা বাজারে কালীবাড়ী রোডের চপ,পেয়াজু,সিংড়া ভাজা বিক্রেতা বিল্লাল হোসেন। অনেকেই তাকে হোটেল বিল্লাল নামে জানে। কেননা ঐ রোডে ভাজার দোকানটাই ছিল তার এক সময়ের রমরমা ভাতের হোটেল। তার গ্রামের বাড়ী থানার বড়বিলা গ্রামে। বাবা নজরুল শেখের কাঁচা ঘরেই তার বসবাস। আর কোন কিছুই নেই তার। আছে অষ্টম শ্রেনীতে মাদ্রাসা পড়–য়া একটি পুত্র সন্তান শিশু শ্রেনীতে পড়া কন্যা ও স্ত্রী। হোটেল ব্যবসায় তার ছিল সুেেখর সংসার। কালবৈশাখী ঝড়ে হঠাৎ তার সংসার তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে তছনছ। গত কয়েক মাস পূর্বে শীতের সকালে রোদ্রের তাপ নিতে মহিলাদের গ্রাম্য আড্ডায় চেয়ারে বসতে যায় তার স্ত্রী। ঠিক সেই মুহুর্তে প্রতিবেশী এক দুষ্ট অবুঝ শিশু চেয়ারটি টান দেয়। ঘটে গেল চরম দূরঘটনা। বিল্লালের স্ত্রীর মেরুদন্ডের হাড় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। চিকিৎসা করাতে সে আজ নিস্ব। ঋনের বোঝা মাথার উপর প্রতি সপ্তাহে স্ত্রীর জন্য ঔষধ কিনতে দুই হাজার টাকারও বেশী। তবুও চলছিল। করোনার প্রভাবে সরকারের নির্দেশ মানতে তার ভাজার দোকানটা এখন বন্ধ। বাড়ীতে সরকারের দেওয়া প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল তার আছে। কথাগুলো যখন বিল্লাল এ প্রতিবেদককে বলছিল তখন তার দুই চোখের লোনা জল গড়িয়ে যেন পরিবারের কষ্ট না বলেই প্রকাশ করেছিল। ফুফুয়ে ফুফুয়ে কেঁদে বলেছিল ভাই গত ৫ দিন সুকনা ঝাল তেলে ভেজে বোতলে রেখে তা দিয়ে সরকারের দেওয়া চালের ভাত খাচ্ছি। ৬ বছরের মেয়েটি খাওয়ার সময় বলে আব্বু ঝাল ভাজি আমাদের আর কত দিন খেতে হবে। এ সময় মনে হয় ভাই আতœহত্যাই করি।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন