বাণিজ্য ডেস্ক :
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমস জটিলতায় বছরে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার পণ্য রফতানি কম হয়। এমন অভিযোগ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের। তবে সেপ্টেম্বরে রফতানি কম হলেও ডিসেম্বর নাগাদ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন তারা। যদিও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতে উন্নত বিশ্বের মূল্যস্ফীতির ধাক্কা লেগেছে। তাই ডিসেম্বর নাগাদ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরা নিয়ে সংশয় বিরাজ করছে।
গেল অর্থবছরে রেকর্ড রফতানির পর চলতি অর্থবছরের শুরুর দুই মাস বেশ ভালো আয় করেছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। তবে সেপ্টেম্বরে হঠাৎই রফতানি প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী। গেল বছরের একই সময়ের চেয়ে রফতানি আয় সাড়ে সাত শতাংশ কমেছে। এছাড়া জুলাইয়ের তুলনায় কমেছে ৫৮ কোটি ডলার।
জুলাই মাসে ৩৩৬ কোটি ১৫ লাখ ডলার রফতানি আয় হয়েছে। আগস্টে ৩৭৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ৩৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রফতানি আয় হয়।
এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচামালের দাম বেড়েছে, অর্ডার কমেছে, কনটেইনার সংকটের সঙ্গে ভাড়াও অনেক বেড়েছে। তার ওপর রাজস্ব কর্মকর্তাদের নানামুখী হয়রানিতে টালমাটাল পোশাক শিল্প।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক খসরু চৌধুরী বলেন, আমরা আরও ২ বিলিয়ন ডলার পণ্য বেশি রফতানি করতে পারতাম। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কাস্টমসের জ্বালাতনে তা সম্ভব হয়নি। আমরা যদি সময়মতো রফতানি না করতে পারি, সময়মতো যদি কাঁচামাল হাতে না পাই, তাহলে রফতানি তো ঠিকমতো করতে পারব না। তার সত্ত্বেও আমি আশা করছি, পরবর্তী মৌসুমে ভালো ব্যবসা করতে পারব।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট পোশাকের অর্ডার ৩০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্য ব্র্যান্ডগুলো খরচ বাড়ার সঙ্গে দাম না বাড়িয়ে অর্ডার কমিয়ে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়তে পারেন। এজন্য এখন থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি কাস্টমস জটিলতা নিরসনে অটোমেশনের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, আমরা এ মুহূর্তে আশা করছি যে নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে আবার হয়তো ঘুরে দাঁড়াবো। সেটি হয়তো অত বেশি নাও হতে পারে। অটোমেশন না হওয়ার কারণেই কিন্তু আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রচণ্ডভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি জায়গায় এত দূর্নীতি অনিয়ম বিরাজ করছে। আবার এনবিআরের অল্প কিছু কর্মকর্তার অসত্য কর্মকান্ডের কারণে এনবিআরের যেমন ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, তেমনই ভাবে আমাদের যে সব ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন, তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার। এরমধ্যে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ২৭ কোটি ডলারের পোশাক।
