হোম জাতীয় একাত্তরে বাংলাদেশের বন্ধু সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই

একাত্তরে বাংলাদেশের বন্ধু সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 54 ভিউজ

নিউজ ডেস্ক:
বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরে বাংলাদেশের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই। আজ রোববার দিল্লির একটি বেরসকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

মার্ক টালি দীর্ঘদিন বিবিসিতে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে বিবিসি রেডিওর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও বাঙালির দুর্দশার চিত্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। মার্ক টালি ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্ক টালির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব।

ব্রিটিশ-ভারতীয় মার্ক টালি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা ছিলেন। বিবিসি রেডিওতে তার পরিবেশিত খবর ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ জানার অন্যতম উৎস।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্ক টালির জন্য ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে। পেশাগত জীবনের বড় অংশ তিনি কাটিয়েছেন ভারতে। টানা ২০ বছর নয়াদিল্লিতে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা ছিলেন।

বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়ে খবর সংগ্রহ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে একাত্তরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। সেই প্রথম এবং শেষ বারের মতো পাকিস্তানী সরকার দুই সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল। মার্ক টালি ১৯৭১ সালের সেই সফরে ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী গিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে মার্ক টালি বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যখন সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছালো এবং তারা মনে করলো যে পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে, তখনই তারা আমাদের আসার অনুমতি দিয়েছিল। আমার সঙ্গে তখন ছিলেন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ।’

বিবিসি বাংলাকে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু স্বাধীনভাবে ঘুরে বেরিয়ে পরিস্থিতি দেখার সুযোগ পেয়েছি, সেজন্য আমাদের সংবাদের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হয়েছে। আমি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে সড়কের দু’পাশে দেখেছিলাম যে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য মার্ক টালিকে ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেয় বাংলাদেশ। বিবিসি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন তিনি।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন