হোম অর্থ ও বাণিজ্য ঈদে ভোগান্তি কমাতে ১৪ দিন সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার আহ্বান

বাণিজ্য ডেস্ক :

আসন্ন ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন সড়কে চলমান সংস্কার ও নির্মাণ কাজ ঈদের আগে ও পরে মোট ১৪ দিন বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

রোববার (১৭ এপ্রিল) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত পরিবহন ও যোগাযোগ (রেল, সড়ক ও মহাসড়ক) বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম বৈঠকে মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু এ আহ্বান জানান।

এসময় তিনি বলেন, বিভিন্ন সড়কে সংস্কার ও নির্মাণ কাজ চলায় যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যায়। যা দীর্ঘ যানজট তৈরি করে।

তাই ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে ২৭ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত সব প্রকার সংস্কার ও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

এ কয়েকদিন যেসব পয়েন্টে বেশি যানজট হয়, সেসব স্থানে সার্বক্ষণিক হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েনেরও আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারি সংস্থাগুলোর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে এফবিসিসিআই শিগগিরই চিঠি পাঠাবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে মাওয়া ও আরিচায় বাড়তি ফেরি আর ফেরির ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোরও আহ্বান জানান সিনিয়র সহ-সভাপতি।

এসময় পদ্মাসেতুর টোল নির্ধারণে এফবিসিসিআই, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাস ট্রাক মালিক সমিতিকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানান তিনি।

এর আগে যানজটে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি ও কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ মো. আমিনুল হক শামীম জানান, শুধুমাত্র টঙ্গীর যানজটে যানবাহনের জ্বালানি খরচসহ দৈনিক ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

করোনায় ১৮ মাস গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেলাপি হওয়া এড়াতে, আয় না থাকলেও ব্যাংক ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী বাজেটে টায়ার, টিউব ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের ওপর বাড়তি শুল্ক-কর আরোপ না করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীর জয়কালী মন্দির ও ইত্তেফাক মোড়ে প্রতি রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেআইনিভাবে চাঁদা তোলেন মন্তব্য করে কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চান।

করোনাকালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাত হিসেবে গণপরিবহন খাতকে চিহ্নিত করে, আগামী তিন বছর এখাতে নীতি সুরক্ষা দেওয়ার আবেদন জানান রমেশ চন্দ্র ঘোষ।

আগামী বাজেটে বাড়তি কোনো কর ভার আরোপ না করারও আহ্বান জানান তিনি।

ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহনের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। যানজট কমাতে ও সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা, সেবার বিকেন্দ্রীকরণ, বিআরটিএ কে কার্যকর করা, ফিটনেস সনদের নামে ঘুষ ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন কমিটির অন্য সদস্যরা।

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম, এম হুমায়ুন কবীর, ফারুক তালুকদার সোহেল, প্রকৌশলী গোলাম কবীর, জি রহমান শহীদ, বজলুর রহমান রতনসহ অন্য সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন