আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানে পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সম্পৃক্ততায় অন্তত এক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। শিগগিরই জনসম্মুখে অভিযুক্তদের বিচার শুরু হবে বলে জানিয়েছে ইরান সরকার।
ইরানে হিজাব ইস্যুতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় তরুণী মাহসা আমিনির। অমানবিক নির্যাতনের মুখে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয় ইরানে। দেশটির প্রতিটি শহরে হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। দেড় মাস পার হলেও, এখনও ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে হাজারো মানুষ।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান সরকার। ধরপাকড় অভিযানও চালাচ্ছে দেশটির পুলিশ। ইরানজুড়ে এখন পর্যন্ত কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ সংখ্যা অন্তত ১৪ হাজার।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার অন্তত এক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সম্পৃক্ততার জন্য অভিযোগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে তেহরান প্রদেশেই রয়েছে তিন শতাধিক। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ।
কর্তৃপক্ষ বলছে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের রেভল্যুশনারি আদালতে পাঠানো হবে। চলতি সপ্তাহে জনসম্মুখেই এ বিচার শুরু হবে।
সম্প্রতি ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিক্ষোভকারী দুই কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে এমন ঘোষণা এলো। ইরানের মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ বলছে, চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৪৫ শিশুসহ ২৮৪ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৫ সদস্য নিহত হয়েছেন।
