হোম আন্তর্জাতিক ইমরানকে ক্ষমতা থেকে হটাতে বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল না: এনএসসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে উচ্ছেদে কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল না। শুক্রবার (২২ এপ্রিল) পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। খবরটি জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাস থেকে পাওয়া টেলিগ্রামের বিষয়ে আলোচনা করেছে এনএসসি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত তার পাঠানো টেলিগ্রামের প্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু কমিটিকে অবহিত করেছেন। কমিটি এতে কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পায়নি।

পাকিস্তানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় সমন্বয়ে সর্বোচ্চ ফোরাম হলো এনএসসি। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এনএসসির এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল নাদিম রাজা, সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মুহাম্মদ আমজাদ খান নিয়াজি, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমদ বাবর এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।

বিবৃতি অনুযায়ী, এনএসসি রাষ্ট্রদূতের পাঠানো ‘বার্তার বিষয়বস্তু’ পরীক্ষা করেছে। তারা কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পায়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠক এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র হয়নি।

রাষ্ট্রদূতের পাঠানো তারবার্তা নিয়ে এটি ছিল দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে মার্চে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের ঘটনায় একটি দেশকে কড়া কূটনীতিক প্রতিবাদ পাঠানো হবে। তবে সেই বৈঠকে দেশটির নাম উল্লেখ করেনি পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপমুখপাত্র জালিনা পোর্টার বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) জারি করা বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে। এক সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা বলেন।

এর আগে গেল ৯ এপ্রিল জাতীয় পরিষদে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদের পাঠানো ‘তারবার্তাকে’ প্রমাণ হিসেবে জনসম্মুখে আনেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন