হোম খুলনাকুষ্টিয়া ইবি শিক্ষিকা হত্যা; সম্মিলিত প্রতিবাদ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

ইবি শিক্ষিকা হত্যা; সম্মিলিত প্রতিবাদ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 116 ভিউজ

ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। রোববার (০৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. গফুর গাজী, গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোখসানা মিলি, থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকেন্দার আলী, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের নেতা-কর্মীরাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, চার সন্তান ইফফাত তায়েবা, তাবাসসুম বুশরা, আবরার সাজিদ ও আয়েশা জান্নাতসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সংহতি জানাতে উপস্থিত হন।

এসময় শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, আমার স্ত্রী যদি কাউকে কোনভাবে কষ্ট দিয়ে থাকে তাহলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমাদের পরিবারের থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট একটাই দাবি এই হত্যার বিচারটা যেন হয়।

মানববন্ধনে জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় শিক্ষক নেতারা বলেন, যেখানে একজন শিক্ষককে ক্লাস-পরীক্ষা শেষে নিরাপদে বাসায় ফেরার কথা ছিল, সেখানে প্রকাশ্যে দিবালোকে একজন শিক্ষককে তার নিজ কর্মস্থলে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। আমরা এই ঘটনায় বাকরুদ্ধ। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, যারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনার সাহস না পায়।

বক্তারা আরও বলেন, নিহত শিক্ষকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই। সেই সাথে ক্যাম্পাসের সকলে যেন নিরাপত্তার সাথে চলাফেরা করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ক্যাম্পাসের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তারা বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বা কাদের মাধ্যমে তারা নিয়োগ পাচ্ছে সেই তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে তারা যদি কোন অপরাধ করে সেই দায়ভার নেওয়ার জন্য অভিভাবকত্ব দিতে হবে।

শিক্ষকরা আরো বলেন, কিছুদিন আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দৃশ্যমান পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাইনি। ওই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল তার কোন কিছুই আমরা জানতে পারিনি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোনো রক্তাক্ত পরিবেশ দেখতে চাই না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন যার আহবায়ক হিসেবে আমি নিজে আছি। নিরপেক্ষ, পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছভাবে আমরা এই তদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এবং আপনাদের সবার কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাই। যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো কাজের অগ্রগতি না দেখাতে পারেন, তবে ঈদের পরে আমরা শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে যাব।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, এই হত্যাযজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যে দাবি নিয়ে আপনারা এখানে এসেছেন আপনাদের দাবির প্রতি আমরা সংগতি জানাচ্ছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে এই হত্যার বিচারে কাজ করে যাবো। যারা এ হত্যার সাথে জড়িত, তাদের এমন শাস্তির কোন কমতি হবে না, যাতে আগামীতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।

এদিকে, রোববার বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার আত্মার মাগফেরাত কামনায় কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবনের গগণ হরকরা গ্যালারিতে একটি শোক সভার আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে আত্মহননের চেষ্টা করেন একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ময়নাতদন্ত করে তার লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ জোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন