আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘী বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) পদত্যাগ করার চেষ্টা করলেও, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লা। তবে এ ঘটনার পর ইতালিজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মারিও দ্রাঘীর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রায় সব শ্রেণির মানুষ। মিলেছে আগাম নির্বাচনের আভাসও।
চার বছর আগে সাধারণ নির্বাচনে ভালো ফল করেছিল ইতালির ‘ফাইভ স্টার’ দল। এরও আগে বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের ফেডারেল নির্বাচনে ভালো ফল করে দলটি। এমনকি রাজধানী রোমের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন সবে বয়স ত্রিশের কোটা অতিক্রম করা ভার্জিনিয়া রাজ্জি। তিনি ছিলেন, ফাইভ স্টার দলের প্রার্থী। যদিও গত বছর রোম সিটির মেয়র নির্বাচনে রাজ্জি বিপুল ভোটে পরাজিত হন। সাধারণ মানুষের সমর্থন কমেছে ফাইভ স্টার দলের প্রতি।
এদিকে দলটির সিনেট সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘীর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লার কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করার চেষ্টা করেন দ্রাঘী। যদিও প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘীর পদত্যাগ নিয়ে অসন্তুষ্ট দেশটির ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীরা। তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেটেও ধস নেমেছে।
মারিও দ্রাঘীর প্রতি ইতালীয়দের আশা ছিল বেশি। কারণ তিনি ছিলেন সফল অর্থনীতিবিদ ও দক্ষ আমলা। তবে অর্থনীতিবিদ হিসেবে বিশ্বজুড়ে মারিও দ্রাঘীর সুনাম থাকলেও, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতালিকে তেমন বড় কিছু দিতে পারেননি তিনি।ইতালিতে যুদ্ধের প্রভাব, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অভিবাসন সমস্যার সমাধানেও দ্রাঘীর অর্জন শূন্য।
ইতালির রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন অনেক কূটনীতিক। যাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লা অন্যতম। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন। শেষ চেষ্টা হিসেবে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ফাইভ স্টার দলের নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইজি ডি মাইও’র মতে, দ্রাঘী সরকারের সমর্থনে জোটকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে তা খুবই কঠিন একটি বিষয়।
ফলে দ্রাঘী সরকারের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা অনিশ্চয়তা। আর এর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত ৪ দিন।
