আশাশুনি প্রতিনিধি :
আশাশুনির শ্রীউলায় জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় ছেলে শফিকুলের মারপিটে মাতা জরিনা খাতুন গুরুতর জখম হয়েছে। গতকাল ভোর ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে নাকতাড়া গ্রামের সুজায়েত আলী মল্লিকের মৃত্যুর পর কিছুদিন পর বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে তার ছেলে শফিকুল ইসলাম মল্লিক তার মাতা জরিনা খাতুনকে আশাশুনিতে নিয়ে এসে ভুল বুঝিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি করে নেয়।
এরপরও সে থেমে থাকেনি মাতাকে আর বাকি জমি টুকু লিখে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপসৃষ্টি করাসহ হয়রানী আসছে। এতে মাতা রাজি না হয়ে বলে তুই তো আমাকে ডাক্তার দেখানোর নাম করে আশাশুনিতে নিয়ে জমি লিখে নিয়েছিস। এরপর যে টুকু জমি আছে সে জমি যদি তোকে দেই তাহলে তোর প্রতিবন্ধি ভাইকে কে দেখবে। আর যে টুকু জমি আছে সে টুকু প্রতিবন্ধি ছেলেটাকে লিখে দেব। এ কথা বলায় মায়ের উপর অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে শফিকুলের নির্যাতন সইতে না পেরে এ বিষয় এলাকার আত্মীয় স্বজনসহ জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে জানালে দুর্দান্ত প্রকৃতির ছেলে শফিকুল চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। সে মায়ের ঘরে ঢুকে বিভিন্ন জিনিশ পত্র চুরি করে নিয়ে যায়।
এ কথা জিজ্ঞাসা করলে ছেলে শফিকুল বৌমা নুরুন্নাহার খাতুন ও তাদের ছেলে (পোতা) সুমন হোসেন বলে বুড়িকে শেষ করে দিতে হবে আমাদেরকে চোর বলে এ সাহস কোথা থেকে আসে বলে হুমকী দিয়ে চলে যায়। এরপর তারা ঘটনার দিন ভোরে ঘরে ফজরের নামাজ আদায় করছিল এমন সময় ছেলে ও তার স্ত্রীর উস্কানিতে পোতা সুমন হোসেন কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করতে থাকে এরই মধ্যে ছেলে শফিকুর, বৌমা নুরন্নাহার ঘরে ঢুকে বলে বুড়িকে আজকে আর বাচিয়ে রাখলে জমি লেখা হবে না শেষ করে দে বললে পোতা সুমন দুহাত দিয়ে গরা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। বৃদ্ধ মায়ের চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তখন ছেলে ও বৌমা মুখ চেপে ধরে একপর্যায় জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে গেলে তারা মৃত ভেবে তারা ঘর হতে বেরিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত ওই বাড়িতে এসে গুরুতর আহত বৃদ্ধা জরিনা খাতুনকে আশাশুনি হাসপাতালে নিয়ে আসে।
হাসপাতালে চিকিৎাধীন আহত জরিনা খাতুন একটু সুস্থ্য হওয়ার পর ঘটনার বিষয় জানতে চেয়ে কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন আামকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে জমি লিখে নিয়েছে। বাকি যে টুকু জমি আছে সে টুকুও লিখে নেওয়ার জন্য সৃষ্টি করে আমি এতে রাজি না হয়ে আমার আর একটি প্রতিবন্ধি ছেলেকে লিখে দেওয়ার কথা বললে আমার পুত্র শফিকুল ও তার স্ত্রী, তাদের পুত্র সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি যখন ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করছিলাম ওই নামাজ পড়া অবস্থায় ঘরে ঢুকে নামাজ আদায় করা অবস্থায় আমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক ন্যায় বিচারের জন্য মাতা জরিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অবিযোগ দায়ের করেন।
এব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোমিনুল ইসলাম পিপিএম এর সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন অভিযোগের ভিত্তিতে এএসআই জাহিদ হোসেনকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে পুত্র, পুত্রবধু ও পোতা কর্তৃক মাতাকে মারপিট করেছে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান যে মা এ মমতা দিয়ে সন্তানকে বড় করে তুলল বা মানুষ করল সেই সন্তান কিভাবে মাকে নির্যাতন করতে পারে। এরকম ছেলে থাকার চেয়ে না থাকা অনেক ভালো। তখন ছেলে বলে আর পরিচয় দেওয়া যায় না। অত্যান্ত দূর্দান্ত প্রকৃতির তাদের এ পুত্র শফিকুল শুধু মাত্র একটু জমি মা তার লিখে দেয়নি বলে এ ভাবেই মারপিট করে বৃদ্ধা মায়ের শরীর রক্তাক্ত করে দিল। এরকম পুত্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবসস্থা গ্রহন পূর্বক অভিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রামবাসী।
