হোম অন্যান্যসারাদেশ আশাশুনির বড়দলের আলোচিত বিধবা তাসলিমা হত্যাকান্ডের মামলার প্রধান আসামী ভাটা সরদার কামাল হোসেন জেল হাজতে

আশাশুনি(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :

আশাশুনির বড়দলের আলোচিত বিধবা নারী ৬মাসের অন্তসত্তা গর্ভজাতক সন্তান নষ্ট করতে গিয়ে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী ভাটা সরদার কামাল হোসেন জেল হাজতে। আটককৃত আসামী কামাল হোসেন গাজী সহ অন্যান্য আসামীদের ফাঁসির দাবীতে এলাকায় মিষ্টি বিতরন করা হয়েছে। গত ১১ মে এ ঘটনাটি ঘটেছিল আশাশুনি উপজেলার মধ্যম বড়দল গ্রামে।

এ ঘটনায় থানার মামলা সূত্রে জানাগেছে মধ্যম বড়দল গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর স্ত্রী বিধবা তাসলিমা খাতুনের সাথে একই গ্রামের নারী লোভী লম্পট মোহাম্মাদ গাজীর পুত্র ভাটা সরদার কামাল হোসেন গাজীর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে বিধবা তাসলিমা খাতুন ৬ মাসের অন্তসত্তা হয়ে পড়লে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় বিষয়টি ধামা চাপা দিতে ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত কামাল হোসেন তার সহযোগীরা গভীর ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করে।

এ চক্রান্ত অনুযায়ী ঘটনার প্রধান নায়ক ভাটা সরদার কামাল গাজীর নেতৃত্বে মৃত পরাণ গাজীর ছেলে মোহাম্মাদ আলী গাজী, খালেক গাজীর ছেলে গোলজার, বাইনতলা গ্রামের জিয়াদ সানার পুত্র রমজান আলী সানাসহ অজ্ঞাত নামা আরো দুই জন মহিলা ঐ বিধবা তাসলিমাকে কামাল হোসেন গাজীর সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে খুলনার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে ভর্তি করে দুইদিনের মাথায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে অপারেশনের মাধ্যমে বিধবা অন্তসত্ত¡া তাসলিমার গর্ভজাতক সন্তান নষ্ট করে দিতে যেয়ে মায়ের করুন মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পরের দিন বিধবার পুত্র তাজবীর আহম্মেদ (ইসমাইল) বাদী হয়ে ১১/৫/২২ তারিখে ১৩ নং মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই আসামীদের গ্রেফতারে সাহসী সৎ ন্যায় নিষ্ঠাবান মাদক ও সন্ত্রাসের আতঙ্ক আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ মমিনুল ইসলাম পিপিএম এর নের্তৃত্বে এস আই মহিতুর রহমান মহিত সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে মামলার ২ নং আসামী গত ১ মাস আগে মধ্যম বড়দল গ্রামের আব্দুল খালেক গাজীর পুত্র গোলজার গাজীকে আটক করতে সক্ষম হয়।

অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারী অভিযান অব্যাহত থাকায় মামলার আসামীরা আর পলাতক থেকে না পেরে মামলার প্রধান আসামী কামাল গাজী সহ অন্যান্য আসামীরা গত ৪ জুলাই সাতক্ষীরা কোর্টে জামিন দিতে গেলে অন্যান্য আসামীদেরকে জামিন মঞ্জুর করলেও ঘটনার প্রধান আসামী নারী লোভী লম্পট ভাটা সরদার কামাল হোসেনকে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

উক্ত আসামীর জেল হাজতে আটক হওয়ায় এলাকাবাসী অত্যান্ত আনন্দিত খুশি হয়ে মিষ্টি বিতরন করেছেন। এসময় তারা স্লোগান দিতে থাকে এ হত্যা কান্ডর সাথে জড়িতদের ফাঁসি দাও দিতে হবে এরকম ঘটনা আর যেন না ঘটে এ দাবী বড়দল ইউনিয়ন বাসীর।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন