হোম আন্তর্জাতিক আলোচনায় বসতে ইউক্রেনকে যে শর্ত দিলেন পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সামরিক অভিযানের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে ইউক্রেনকে একটি শর্ত দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, আলোচনায় বসার আগে কিয়েভকে মস্কোর দখল করা অঞ্চলগুলোর অধিকার ছেড়ে দিতে হবে। আলোচনায় বসা না বসার বিষয়টি ইউক্রেনের এ সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বলেও জানিয়েছেন পুতিন।

ইউক্রেন সংঘাত ১১ মাসে গড়িয়েছে। এতে দুই পক্ষের সামরিক-বেসামরিক বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। সংঘাত বন্ধে শুরু থেকেই অনেক আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে বছর শেষ হয়ে নতুন বছর এসেছে। কিন্তু যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই। বরং হামলা-পাল্টা হামলার তীব্রতা বেড়েই চলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার জন্য শর্তের কথা জানালেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এদিন ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

ফোনালাপকালে ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন এরদোগান। বিপরীতে আলোচনায় বসার জন্য শর্তের কথা বলেন পুতিন। এরদোগানকে তিনি বলেন, কিয়েভ যদি তাদের হারানো ভূখণ্ডের নতুন বাস্তবতা মেনে নেয় তাহলে তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোনালাপে প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করেছেন, রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য উন্মুক্ত।

গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে দেশটির প্রায় এক পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখল করে নেয় রুশ বাহিনী। এর মধ্যে সেপ্টম্বরে এসে ইউক্রেনের লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিঝজিয়া নিজেদের বলে ঘোষণা করেন পুতিন।

ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত বছরের নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে প্রথম ১০ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি। এরপর গত ২২ ডিসেম্বর জি-৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে আবারও বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসে ভাষণের সময় বিষয়টি উল্লেখ করেন জেলেনস্কি। এরপর গত ২৫ ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপে এ বিষয়ে সাহায্য চান তিনি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন মতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবে জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বিকিরণ ও পরমাণু নিরাপত্তা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি এবং এরই মধ্যে রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডগুলো ফিরিয়ে দেয়ার মতো বিষয় দাবি আকারে তুলে ধরা হয়েছে।

এতে আরও রয়েছে, রুশ সেনা প্রত্যাহার, পরিবেশ রক্ষা, সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধাপরাধের বিচার ও যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা। তবে জেলেনস্কির এই প্রস্তাব সেই নভেম্বরেই প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া। মস্কোর বক্তব্য, রুশ বাহিনী যেসব এলাকা দখল করেছে, তার এক ইঞ্চিও ফিরিয়ে দেবে না তারা।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন