জাতীয় ডেস্ক :
বিল পরিশোধ না করতে পারায় যমজ শিশু সন্তানকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল’র মালিক মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ারকে আটক করেছে র্যাব।
শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে র্যাব। কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যমক শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কিছু কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে অভিযান চালিয়ে পরিবেশের কোনো ছাড়পত্র পায়নি। যেখানে হাসপাতালে ৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা সেখানে আমরা গিয়ে ১ জন চিকিৎসক পেয়েছি ও ১ জন নার্স পেয়েছি। ওই চিকিৎসক এনআইসিইউ বিশেষজ্ঞ না, সে একজন নরমাল এমবিবিএস চিকিৎসক। কিন্তু সে এ কাজ করে আসছিল।
খন্দকার আল মঈন বলেন, হাসপাতালে অবস্থানরত রোগীদের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, সে মূলত বিভিন্ন সনামধন্য হাসপাতালের দালাল দের মাধ্যমে এনআইসিইউ সাপোর্টের কথা বলে এই হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে তাদেরকে সেখানে ভর্তি করিয়ে বড় অঙ্কের একটি বিল তৈরি করে।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা দেখেছি এই হাসপাতালে বিলের ভাওচার দেওয়া হয়না। মালিক গোলাম সারোয়ার রিসিপশনের সঙ্গে কথা বলে যে বিল ধার্য করে সেই বিলটি রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদফতেরর যে চিকিৎসা চার্ট থাকে আমরা এমন কোনো কিছু দেখিনি। এমনকি কোনো স্পেশালিস্ট চিকিৎসক এই হাসপাতালে এসে ডিউটি করেছে এমন কোনো তথ্য আমরা প্রাথমিক তদন্তে পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া অনিয়মের মধ্যে আমরা যেসব পেয়েছি সেগুলো হলো- দুইটি আইসিইউ বেড রাখার কথা বলে ছয়টি বেড রাখা, ৯টি এনআইসিইউ রাখা, ১৫টি বেডে ও ওয়ার্ডে সাধারণ রোগী রাখা এই সব কার্যক্রম শুধুমাত্র একজন চিকিৎসক করতেন এবং ১-২ জন নার্স থাকতেন। মূলত, গোলাম সারোয়ার একছত্রভাবে এই হাসপাতালটি পরিচালনা করতেন। এসব বিষয় সে আমাদের কাছে স্বীকার করেছে।
মালিক গোলাম সারোয়ার এর বরাতে তিনি বলেন, প্রথমত দালাল যখন রোগীটি নিয়ে আসে তখন তারা জানতে পারে তার স্বামী বিদেশে থাকে তাদের একটা উচ্চাশা ছিল যে বেশি মুনাফা পাওয়া সম্ভব হবে। পরে যখন দেখছে যে সে ৪০ হাজার টাকার বেশি দিতে পারছে না তখন তাকে জোরপূর্বক যমজ বাচ্চাসহ ওই মা কে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে ওই হাসপাতালের পি-আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু দুই যমজ শিশুকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এক ভাই। আরেক ভাইয়ের অবস্থাও সংকটাপন্ন। সন্তানের মৃত্যুর জন্য ‘আমার বাংলাদেশ’ নামের হাসপাতালটিকে দায়ী করেছেন শিশুটির মা।
শিশুর মা বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সচালক অর্ধেক রাস্তায় গিয়ে বলেন আমার একটি পরিচিত হাসপাতাল আছে, ওই হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোহরাওয়ার্দীতে যদি ৫ টাকা খরচ হয় ওখানে ৭ টাকা খরচ হবে। তখন বলি আমি গরিব মানুষ বেশি টাকা হলে দিতে পারব না। পরে আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৫ হাজার টাকা দিছি টেস্টে ও আরও ৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম ওষুধে। ৭২ ঘণ্টা পর আমাকে বিল দেয় ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পরে আমার কাছে আরও ৬০ হাজার টাকা চায়। আমি টাকা দিতে না পারায় আমাকে গালাগালি দিয়ে আমার সন্তানসহ আমাকে হাসতাপাল থেকে বের করে দেয়।’
এদিকে আরেক শিশু আবদুল্লাহর অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, আমরা বাচ্চাটাকে অনেক খারাপ অবস্থায় পেয়েছি এবং সেটার জন্য এখানে ভর্তি করে যাবতীয় চিকিৎসা আমরা শুরু করেছি।
