নিজস্ব প্রতিনিধি :
‘আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার ১৬ বছরের স্কুল পড়ুয়া মেয়েটা স্কুল বন্ধ করে বাড়িতে বসে আছে। আমার স্ত্রী বাইরে যেতে পারে না। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সাহেদের আইনজীবী ঢাকার একটি আদলতে জামিন আবেদন করলে তিনি এই কথা গুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, সহপাঠীরা তাকে প্রতারকের মেয়ে ডাকায় সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল একবার। এছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোয় স্ত্রীকে ‘চোরের বউ’ বলে অনেকে অপমান করেন। ২০২০ সালে যখন দেশে করোনা রোগী বেড়েছিল, তখন স্বাস্থ্যসচিব তাকে হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এরপর তার প্রস্তাবে হাসপাতাল দুটিতে কোনো ফি ছাড়াই করোনা রোগীদের নমুনা পরীক্ষা এবং দেশে প্রথম করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ অভিযুক্তদের কাউকে আমি চিনতাম না। মামলায় যে টাকার কথা বলা হয়েছে তা আমি পাইনি। আমাকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেফতার করা হয়নি। এখানে একটি সাজানো নাটকের মঞ্চছিল। এর দুই আগে থেকে ঢাকা থেকে র্যাব আমাকে গ্রেফতার করে তাদের আস্তানায় রেখেছিল।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান এ মামলায় আবুল কালাম আজাদসহ ৫ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। মামলায় সাহেদ, আজাদ ও বাকি ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি স্থগিত করার জন্য দাখিল করা আবেদনও মঞ্জুর করেন আদালত।আজ শাহেদের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক আদেশ দিবেন বলে জানা গেছে ।
প্রসঙ্গতঃ মামলায় অভিযুক্তরা লাইসেন্স নবায়ন না করেই বন্ধ হয়ে যাওয়া রিজেন্ট হাসপাতালটিকে একটি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে রূপান্তরিত করেছিল এবং অবৈধ সুবিধা নিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিল।২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ৫ জনের নামে মামলাটি করে দুদক। মামলায় , কোভিড-১৯ রোগীদের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু তদন্তকালে এই ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাসচিব আজাদের নাম অভিযোগ পত্রে পলাতক দেখানো হয়। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ পত্রটি দাখিল করেন দাখিল করেন।
