হোম ফিচার ‘আমরা রয়ে গেলাম দুর্ভাগাদের কাতারে’

বিনোদন ডেস্ক :

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর)। ১৯৯৬ সালের এই দিনে ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ পাওয়া যায়।

অমর নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি ও সিনেমাপ্রেমীরা।

মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রয়াত এই নায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকাই সিনেমার নায়িকা ববি হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হিরোর পরিপূর্ণ উদাহরণ আপনি। তারা সৌভাগ্যবান যারা আপনাকে পেয়েছে, আর আমরা রয়ে গেলাম দুর্ভাগাদের কাতারে। কিন্তু অন্তরের অন্তস্থল থেকে সবসময়ই আপনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। আপনার প্রতিটি লুক, স্টাইল, অভিনয়ের অনুকরণ করেই প্রতিনিয়ত তৈরি হবে নতুন নতুন চরিত্র। বেঁচে থাকুন সবার মাঝে আমাদের বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে উজ্জ্বলতম তারকা হয়ে।’

বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে ক্ষণজন্মা এক নক্ষত্রের নাম সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালের আজকের এ দিনে (৬ সেপ্টেম্বর) রহস্যময় মৃত্যুতে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। স্মৃতির পাতায় সোনালি অক্ষরে লেখা হয় তার নাম।

চলে যাওয়ার ২৫ বছর পরেও শ্রদ্ধাভরে তার নামটি স্মরণ করেন অসংখ্য ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। আজও ভক্তের ‘অন্তরে অন্তরে’ সালমান শাহ। থাকবেন যত দিন বাংলা সিনেমা থাকবে।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার পুরো নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর দুই ছেলের মধ্যে সালমান শাহ বড়। তার ছোট ভাইয়ের নাম শাহরান চৌধুরী ইভান।

খুলনার বয়রা মডেল হাইস্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন সালমান শাহ। ১৯৮৭ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন ঢাকার ধানমন্ডির আরব মিশন স্কুল থেকে। এরপর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হককে বিয়ে করেছিলেন সালমান শাহ।

১৯৮৫ সালে অভিনয় জীবন শুরু করেন সালমান শাহ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয় করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় তার। বড়পর্দায় অভিষেক হয় ১৯৯৩ সালে, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে।

মৌসুমী-সালমান শাহ জুটিকে সোহান নির্মাণ করেন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ওই সময়ই তার নাম রাখা হয় সালমান শাহ। ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমায় মৌসুমীর সঙ্গে হলেও শাবনূরের সঙ্গে জুটি হয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন এ নায়ক। সালমানের মুক্তিপ্রাপ্ত ২৭ সিনেমার মধ্যে ১৪টির নায়িকাই ছিলেন শাবনূর।

ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে একমাত্র নায়ক সালমান শাহ। যিনি সর্বমহলে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছিলেন। পাশাপাশি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তরুণদের স্টাইল আইকন হিসেবে। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে ভিন্ন স্টাইল আর ফ্যাশনে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।

সালমান শাহ আজ নেই। আছে তার প্রিয় ইন্ডাস্ট্রি। আছে তার কাজ, অভিনীত সিনেমা আর অনেক সহকর্মী। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সালমান শাহকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ আজ সময়ের দাবি। সালমান ভক্তদের দীর্ঘদিনের চাওয়া এফডিসি অভ্যন্তরে তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখা হোক। যেমনটা করা হয়েছে জহির রায়হান, মুক্তিযোদ্ধা জসিম আর চিত্রনায়ক মান্নাকে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন