জাতীয় ডেস্ক :
অভিযান চালিয়ে রাজধানীর গুলিস্তানে সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটের প্রায় দেড়শ অবৈধ দোকান ভেঙে ফেলেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব অবৈধ দোকানের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রমাণ পেলে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।
মঙ্গলবার (০৮ মার্চ) দুপুর থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে।
আব্দুল মান্নান। গ্রামের পৈতৃক ভিটা বিক্রি করে রাজধানীর গুলিস্তান সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটে ৭০ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন ছোট একটি দোকান। আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অভিযানে ভেঙে ফেলা হয় মান্নানের দোকানসহ সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটের প্রায় দেড়শ অবৈধ দোকান। কোনটি বৈধ আর কোনটিই বা অবৈধ তা বোঝার উপায় নেই।
নকশা বহির্ভূত কয়েকশ দোকান দুই বছর আগে উচ্ছেদ করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রশংসা পেয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবারও গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটে বসানো হয়েছে অবৈধ দোকান। তাই এসব অবৈধ দোকান অপসারণে ফের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। জড়িত আছে সিটি করপোরেশন এবং মার্কেট কর্তৃপক্ষের সদস্যরাও।
ডিএসসিসি প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, প্রভাবশালী কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
অবৈধ উপায়ে যাতে কোনও প্রকার দোকান গড়ে উঠতে না পারে এ বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ডিএসসিসি সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের নিচতলার ৫ নম্বর গেটে অবৈধভাবে নির্মিত দোকান এবং নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি ও পণ্যের জন্য পরিচিত সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটে এক সময় ৭৫৩টি অবৈধ দোকান ছিল। মার্কেটের সিঁড়ি, হাঁটা-চলার পথ, লিফট, টয়লেটসহ বিভিন্ন জায়গা দখল করে এসব দোকান গড়ে উঠেছিল। অবৈধ দোকান উচ্ছেদে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর অভিযান চালায় সিটি করপোরেশন। অভিযানে কিছু অংশ ফাঁকা করা হলেও ফের এগুলো দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আজ এসব দোকান উচ্ছেদে নেমেছে।
দুই দিনব্যাপী এ উচ্ছেদ অভিযানে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার এবং আফিফা খান নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
