হোম আন্তর্জাতিক আফগানিস্তান-তাজিকিস্তানকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান রাশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য আচরণের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তানের দ্বন্দ্বের সুরাহা চেয়েছে রাশিয়া।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আমরা শুনেছি, দেশ দুটি নিজেদের সীমান্তে সেনা পাঠাচ্ছে। তাজিক-আফগান সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা দেখা গেছে। ইতিমধ্যে দুদেশের নেতারা জোরালো বিবৃতি দিয়েছে। কিন্তু পরস্পরিক গ্রহণযোগ্য আচরণের ভিত্তিতে এই সংকটের সমাধান করতে হবে।-খবর রয়টার্সের

তালেবানের তথ্য বলছে, তাজিকিস্তানের নিকটবর্তী আফগানিস্তানের উত্তরপূর্বাঞ্চলের তাকহার প্রদেশে কয়েক হাজার বিশেষ বাহিনীর সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

এ নিয়ে তালেবান মুখপাত্র ও তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাবুলের তালেবানের নিয়োগ দেওয়া মন্ত্রিসভাকে স্বীকৃতি জানাতে অস্বীকার করেছেন তাজিক প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রখমন। এছাড়া পানশির উপত্যকাকে তালেবানের অবরুদ্ধ করে রাখাকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন আখ্যায়িত করেও তিনি সমালোচনা করেন।

বিপরীতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দুশানবেকে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছে তালেবান। আফগান জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশেরও বেশি নৃতাত্ত্বিক তাজিক। কিন্তু তালেবানে অধিকাংশ সদস্য নৃতাত্ত্বিক পশতু গোষ্ঠীর।

তাজিকিস্তানে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার দুটি সীমান্ত প্রদেশে সামরিক মহড়া চালিয়েছে তাজিকিস্তান।

এদিকে গত মাসে আফগানিস্তানের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার পর সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যাওয়া মার্কিন-প্রশিক্ষিত পাইলটসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।

আফগান যুদ্ধের শেষ দিকে দেশটির মার্কিন-সমর্থিত বিমান বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য পালিয়ে তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন। যাদের এখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফিন্যানসিয়াল টাইমস বলছে, তাজিকিস্তান এখন তালেবানবিরোধী আফগান প্রতিরোধ বাহিনীর কেন্দ্রস্থল। সোভিয়েত আমলের আফগান প্রতিরোধ নেতা আহমাদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমাদ মাসুদ, আফগানিস্তানের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ ও ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির নেতা আবদুল লতিফ পেদরাম বর্তমানে তাজিকিস্তানে অবস্থান করছেন।

মধ্য-এশীয় দেশটির ধারণা, আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে মৌলবাদ বেড়ে যেতে পারে। অঞ্চলটিতে মাদক পাচারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এছাড়া শরণার্থীদেরও ঢল নামতে পারে।

আফগান প্রতিরোধে অংশ নেওয়া তাজিক, যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন, তাদের সমর্থন দেওয়া তাজিকিস্তানের ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষ নয়। এটিকে অবশ্য কর্তব্য বলে বিবেচনা করে আসছে তাজিকিস্তান।

ইমোমালি রখমন বলেন, আফগানিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক জোটের চলে যাওয়ার সব নেতিবাচক ফল প্রতিবেশী দেশগুলোর কাঁধে এসে পড়েছে। যদি আমরা এতে কোনো ধরনের নজর না দিই, তবে ফের ২০০১ সালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন