হোম জাতীয় আওয়ামী লীগ নেতার হয়রানিতে চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

জাতীয় ডেস্ক :

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান মো. মীরন অর রশিদকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে বজরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চেয়ারম্যান মীর অর রশিদ।

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ২০১৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। পক্ষান্তরে মনোনয়ন বঞ্চিত ইকবাল হোসেন আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ইকবাল হোসেন তার শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তার লোকজন দিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন, কিন্তু তাতেও তিনি হেরে যান।

চেয়ারম্যান মীরন অর রশিদের অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে ইকবাল হোসেন তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে একের পর মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগ করে বিগত পাঁচ বছর ধরে নানা হয়রানির মধ্যে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে করা প্রত্যেকটি অভিযোগেরই প্রশাসনিক তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও ইকবাল হোসেনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার বন্ধ হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান মীরন হোসেন উল্লেখ করেন, ইকবাল হোসেন নিজেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের আহবায়ক পরিচয় দিলেও বাস্তবে তা নয়। তিনি ইতোপূর্বে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর রাতারাতি তিনি আওয়ামী লীগার বনে যান এবং নিজেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছেন, পাশাপাশি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে কোন মামলা করিনি। মামলা অন্য ব্যক্তি করেছেন। ফেসবুকে অপপ্রচারের বিষয়ে কোন প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন না। তবে তার (চেয়ারম্যানর) বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন, ওই অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিতও হয়েছে; যার প্রমাণ তার কাছে আছে। তা ছাড়া তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক নন, বর্তমান পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বাক্ষরিত কমিটি তাঁর কাছে আছে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহার বলেন, বজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সেখানে ২০১৭ সালে ইকবাল হোসেনকে আহবায়ক করে একটি কমিটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই কমিটিতে কেবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বাক্ষর করেছেন। তাই ওই কমিটি বৈধতা পায়নি। এ কারণে পূর্বের কমিটির সভাপতি মির্জা বাবুলই দলের দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন