রাজনীতি ডেস্ক:
জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, গণতন্ত্রের নামে ৩৩ বছর আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি যা করেছে, তারচেয়ে অনেক ভালো আমাদের দল-এটা জনমানুষের কথা। আজকে যত উন্নয়ন তার বেশিরভাগের ভিত্তিমূলে আছে আমাদের দল।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে চর্তুথ দিনের মতো মনোনয়নপত্র বিক্রির শেষ দিনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জাপা মহাসচিব বলেন, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এমনটি সরকারের পক্ষ থেকে যে আশ্বাস দেয়া হয়েছে তা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছিলো, তিনি তখন বলেছেন মনোনয়নপত্র তুলবেন, তিনি সেটি তুললে তাকে স্বাগত জানানো হবে।
মুজিবুল হক বলেন, দেশের মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে, বৃহত্তর স্বার্থে তিনি (জিএম কাদের) নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা আশা করি, জাতীয় পার্টি নির্বাচন করার জন্য যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছে, যে পরিবেশটার জন্য, সেই পরিবেশটা থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট মহল সেই ব্যবস্থা করবে। এটা আমাদের আশা থাকল।
শুরু থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের কাছে তিন দিনে ১ হাজার ৫১০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে জাপা। এতে দলটির আয় হয়েছে ৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। দলটির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে ঢাকা-১৭ ও রংপুর-৩ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
সোমবার (২০ নভেম্বর) থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে জাতীয় পার্টি। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) মনোনয়ন ফরম বিক্রির শেষ দিন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) থেকে ২৬ নভেম্বর (রোববার) পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৭ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রতিটি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকায়। পাশাপাশি দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সর্বস্তরের নেতাদের বকেয়া মাসিক চাঁদা পরিশোধ করে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে ১৮ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি পাঠান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও একই দলের সংসদ নেতা রওশন এরশাদ।
তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়নের আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ভোটগ্রহণ ৭ জানুয়ারি।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ভোট হতে হবে। গত ১ নভেম্বর থেকে এবারের নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। ২৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। সে অনুসারে ১৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।