বাণিজ্য ডেস্ক :
জ্বালানি তেল ও ডলারের সঙ্গে বেড়েছে তুলার দাম। যার প্রভাবে অস্থির দেশের সবচেয়ে বড় দেশি কাপড়ের পাইকারি বাজার বাবুরহাট। সেখানে বিক্রি নেমেছে অর্ধেকে। এতে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা।
মাথার টুপি থেকে শুরু করে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস, শার্ট পিস, প্যান্ট পিস, পাঞ্জাবির কাপড়সহ সব ধরনের পোশাক এ বাজারে ওঠে। থানকাপড়সহ দেশে তৈরি সব ধরনের কাপড় মেলে বৃহত্তম পাইকারি বাজার নরসিংদীর শেখেরচর বাবুরহাটে। দেশীয় বস্ত্রের প্রায় ৭০ ভাগ কাপড়ের চাহিদা পূরণ হয় এ বাজার থেকেই। তবে জ্বালানি তেল ও সুতার দাম বাড়ার প্রভাবে সব ধরনের কাপড়ের দাম বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনা করে জানা যায়, প্রতি গজ থান কাপড়ের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা এবং প্রতি পিস শাড়ি, থ্রি পিসে বেড়েছে শতকরা ২০ থেকে ২৫ টাকা; যা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাজারে আসা পাইকারি ক্রেতাদেরও ফেলছে বিপাকে।
তারা বলেন, কাপড়ের দাম তো আগুন। শাড়ি, লুঙ্গি সব কিছুর দামই বাড়তি। যে কাপড় আগে ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। সেটি এখন ৭৫ টাকাই কিনতে হয়। আর ক্রেতার কাছে ৯০ টাকা চাইলে, তারা দেন দৌড়।
করোনা মহামারির পর থেকে লাভের মুখ দেখেননি এখানকার ব্যবসায়ীরা। কাপড়ের দাম বাড়ায় বাজারে কেনাকাটায় প্রভাব পড়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
পাইকারি বিক্রেতা বলেন, ডলারের দাম বাড়ার কারণে আমাদের কাপড়গুলোর দাম বেড়ে গেছে। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনের খরচ ইতোমধ্যে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আগে যেখানে ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভ করতাম, এখন সেখানে ৫ টাকা লাভ করি। এভাবে চলতে থাকলে, আমরা যারা ব্যাংক ঋণ নিয়েছি, তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে যাব।
প্রতি হাটে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হলেও বর্তমানে তা ৪০০ কোটিতে নেমে এসেছে বলে জানান নরসিংদী বণিক সমিতি শেখেরচর-বাবুরহাটের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. আব্দুল বারেক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাবই আমাদের হাটে পড়েছে। এর জন্যই এখন বেচাকেনা অনেক কম।
উল্লেখ্য, পাইকারি কাপড়ের এ বাজারে ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ দোকান রয়েছে। এখানে কমর্রত রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
