হোম আন্তর্জাতিক অস্ট্রেলিয়ান বিমান আটকে দিয়েছিল চীনা যুদ্ধবিমান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গেল মে মাসে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ান একটি সামরিক নজরদারি বিমানকে ‘বিপজ্জনকভাবে’ বাধা দিয়েছিল চীনের যুদ্ধবিমান। রোববার (৫ জুন) এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেছে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগ।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৬ মে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ‘নিয়মিত সামুদ্রিক নজরদারি কার্যকলাপ’ পরিচালনা করছিল রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি পি-৮ সামুদ্রিক নজরদারি বিমান। এ সময় চীনের একটি জে-১৬ যুদ্ধবিমানের বাধার মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিমানটি। খবর আল-জাজিরা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীনের ওই যুদ্ধবিমান ‘বিপজ্জনকভাবে’ অস্ট্রেলিয়ার পি-৮ বিমানকে বাধা দেয়ায় বিমানটির ক্রুদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ পার্থে সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় তার সরকার ‘উপযুক্ত চ্যানেলের মাধ্যমে’ চীনের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তবে অস্ট্রেলিয়ায় চীনের দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘকাল ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের ওপর নজর চীনের। ২০০৬ সাল থেকে এ অঞ্চলে ক্রমাগতভাবে বাণিজ্য, সাহায্য, কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বাড়িয়ে আসছে দেশটি। সিডনিভিত্তিক স্বাধীন থিংক ট্যাঙ্ক লোই ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঋণ এবং বিভিন্ন ধরনের অনুদানসহ এ অঞ্চলে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে বেইজিং।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে চীনের এ আগ্রহের অনেক কারণ রয়েছে।

কিন্তু চীনের প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই স্বার্থ অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কারণ, ঐতিহ্যগতভাবেই দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরকে মনে করে তার ‘ব্যাকইয়ার্ড’ বা ‘পেছন দিকের উঠান’।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনের প্রভাব কমাতে ক্যানবেরা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহায়তা বাড়িয়েছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হতে ২০১৮ সালে ‘প্যাসিফিক স্টেপ-আপ’ নীতি চালু করে অস্ট্রেলিয়া। শুধু তাই নয়, মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো তহবিলও চালু করে দেশটি। ক্যানবেরার এ পদক্ষেপকে দেখা হয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ঋণ এবং ব্যয়ের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে।

কিন্তু চলতি বছরের শুরুর দিকে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে চীন। আর এ চুক্তিকে ৮০ বছরের মধ্যে ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ান পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করে অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টি।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন