আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট বাতিল সংবিধানের ৯৫ ধারার লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি।
একই সঙ্গে যে সংকট দেখিয়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্টের আইনজীবীর কাছে তার বিস্তারিতও জানতে চান তিনি। অনাস্থা ভোট বাতিলের আইনগত বৈধতার বিষয়ে আজই উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায় দেওয়ার কথা রয়েছে।
৩ এপ্রিল পাকিস্তানের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট বাতিল করে একে সংবিধানের লঙ্ঘন বলে রুল জারি করেন ডেপুটি স্পিকার। আটকে যায় ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়া। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি।
ডেপুটি স্পিকারের ওই রুল জারির বিরুদ্ধে বিরোধী আইনপ্রণেতারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে শুরু হয় অনাস্থা ভোট বাতিলের আইনগত বৈধতা নিয়ে শুনানি। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে ওই শুনানি শুরু হলেও এটি দীর্ঘায়িত হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন বিরোধীরা।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, অবশেষে টানা পাঁচ দিন ধরে চলা শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘোষণা শুরু করেন প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়াল। বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট বাতিল সংবিধানের ৯৫ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। পার্লামেন্ট সংবিধানের রক্ষক দাবি করে এর প্রতিটি ধারা পার্লামেন্টকেই মেনে চলতে হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অনাস্থা ভোট আয়োজনে সংকট কোথায় ছিল, প্রেসিডেন্টের আইনজীবীর কাছে তার ব্যাখ্যাও চান প্রধান বিচারপতি।
এর মধ্যেই নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনকে তারিখ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। বুধবার নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে তাগাদা দেওয়া হয়। যদিও পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিভিন্ন ধরনের আইনি ও পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে নির্বাচন আয়োজনে দেরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।
